বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘একটি আধুনিক নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব পূর্ণ ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করার সক্ষমতা।’
‘অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গোতে একটা কমপ্লেক্সে বিরাট ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। এতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতিসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছিল। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’—বলেন তিনি।
সোমবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত ‘এয়ারপোর্ট ফায়ার ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক মহড়া পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি কমিটি গঠন করেছি। শিগগিরই আইকাও অডিট অনুষ্ঠিত হবে। তাদের পর্যবেক্ষণের সাথে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই যেসব বিষয়ে আইকাও এর পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে সেগুলোর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত ব্যবস্থা করার জন্য আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’
‘ভিআইপি এবং সিআইপি সকলের জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান রেখেছি তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকলকে সমানভাবে প্রোটোকল দেওয়ার জন্য অনুরোধ এবং অনুসরণ করার জন্য আমি নির্দেশ দিচ্ছি’—বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি অগ্নি দুর্ঘটনার সময় অনুমোদনহীন ড্রোন ওড়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিমানবন্দর রাষ্ট্রের কেপিআইভুক্ত এলাকা তাই বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।’
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানবন্দরে কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবেলায় রেসপন্স টাইম আরো কমিয়ে আনতে হবে। ফায়ার সার্ভিস এয়ারপোর্ট অপারেশনস সিকিউরিটি মেডিকেল টিম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনে এমইউ স্বাক্ষর করতে হবে। তার উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে বলতে চাই আমাদের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিধি রয়েছে সম্মানিত যাত্রীরা তাদের নিরাপদ নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এজন্য আমাদের সর্বসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, তাতে যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পান এবং নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারেন আমাদের লক্ষ্য হতে হবে।’
