চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বালু উত্তোলনের ড্রেজার আটকে রেখে মালিকের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠেছে। চাঁদা না দেয়ায় প্রায় এক মাস ধরে ড্রেজারটি আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ড্রেজারের মালিক মো. আরিফ। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি তার। এ ঘটনায় তিনি সীতাকুণ্ড মডেল থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
সরজমিনে জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ার হাটের পশ্চিমে বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি ড্রেজারের পাইপ ওয়েল্ডিং করার জন্য উপকূলে আনা হয়। ড্রেজারের মালিক মো. আরিফের অভিযোগ, এ সময় বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বাসিন্দা মান্নান তাকে সাগর থেকে বালু উত্তোলনের প্রস্তাব দেন। আরিফ এতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। আরিফের অভিযোগ, মান্নানের নির্দেশে সৈয়দপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়ার হাট এলাকার নুরুদ্দীন, আজাদ, দিদার, কমর আলী এলাকার সজিবসহ কয়েকজন তাকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ১ লাখ টাকার একটি চেক নেন।
পরে গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তার কাছে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় ড্রেজারটি আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ড্রেজারের মালিক আরও অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস ধরে ড্রেজারটি আটকে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি সীতাকুণ্ড মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মান্নানের নির্দেশে ভূঁইয়ার হাট ও কমর আলী এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে নুরুদ্দীন এবং শাহজাহান মোল্লার ছেলে সজিবের নেতৃত্বে একটি চক্র গত এক বছর ধরে ভূঁইয়ার হাটের পশ্চিমে বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন সাগর থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন করে আসছে। অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ড্রেজারের মালিক মো. আরিফ মানবজমিনকে বলেন, নুরুদ্দীন ও সজিবরা আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১ লাখ টাকার চেক নিয়েছে এবং আরও ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। টাকা না দেয়ায় তারা আমার ড্রেজার আটকে রেখেছে।
এতে আমার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বি বলেন, ‘অবৈধভাবে কাউকে বালু উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। কেউ এ ধরনের অবৈধ কাজ করলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
