২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর কথা ভেবেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো। তবে পর্তুগালের হয়ে আরও সাফল্য অর্জন এবং নিজের ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার তাড়না তাকে পিছু হটতে দেয়নি। সম্প্রতি লিসবনে পর্তুগালের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা।
ওয়েলসের বিপক্ষে উয়েফা ন্যাশনস লীগের হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং অবসরের জল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। আল-নাসরের এই ফরোয়ার্ডের লক্ষ্য এখন ১,০০০ গোলের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে বাকি থাকা ২১ গোল দ্রুত পূরণ করা। সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে আরেকটি ন্যাশনস লীগ শিরোপাও জিততে চান তিনি।
অবসরের ভাবনা নিয়ে সিআরসেভেন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তা ভেবেছিলাম। আমি সব সময়ই আমার সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ এবং বর্তমান নিয়ে ভাবি। আমি একজন চিন্তাশীল মানুষ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে আমি সাহায্য করতে পারবো। শুধু গোলের মাধ্যমেই নয়, মাঠের বাইরেও দলের প্রতি আমার সমর্থন থাকবে।’
পর্তুগাল স্কোয়াডে এবার ফ্যাবিও সিলভা, নুনো মেনদের, জোয়াও নেভেসের মতো একদল তরুণ তুর্কি জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন প্রজন্মকে মেন্টরিং করাও যে তার চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ, তা পরিষ্কার করে রোনালদো বলেন, ‘এটি একটি নতুন তরুণ প্রজন্ম। তবে আমার কাছে মূল বিষয় হলো মাঠে নেমে গোল করা এবং দলকে ম্যাচ জেতানো। তরুণরা ক্রিস্টিয়ানোকে কেন ভালোবাসে আমি জানি। কারণ তারা আমাকে একটি উদাহরণ হিসেবে দেখে। এমনকি আমি অবসর নেয়ার পর ১০ বছর পর হলেও এই ধারা বজায় রাখবো।’
সমালোচনা নিয়ে বলতে গিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এই পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেন, “পর্তুগালেই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা পেয়েছি। আমি বুঝতে পারি কিছু মিডিয়া চ্যানেল আমার সমালোচনা করতে পছন্দ করে, তারা আমাকে ‘শটগান’ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। তবুও আমি নিজেকে সামলে নিতে পেরেছি। গত ২০ বছর ধরে আমি এটি সহ্য করে আসছি। তবে আমার সমস্ত স্মৃতি সেই মানুষগুলোর জন্যই যারা আমাকে ভালোবাসে।”
পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুসও তার এই মহাতারকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি রোনালদোকে পর্তুগাল ও জাতীয় দলের ‘জীবন্ত প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের জার্সিতে ২৩৪তম ক্যাপ অর্জনের অপেক্ষায় থাকা এই কিংবদন্তি প্রমাণ করে চলেছেন যে বয়স কেবলই একটি সংখ্যা।
