মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশের পর কুবি ও আশপাশে যৌথ অভিযান, আটক ১২

মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশের পর কুবি ও আশপাশে যৌথ অভিযান, আটক ১২

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ও আশপাশের এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। এ অভিযানে কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। কোটবাড়ী এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘অভিযানটি পুলিশ লাইন থানা থেকে চলমান। শুধু আমাদের থানা এলাকায় নয়, পুরো জেলাতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চলছে।’

তিনি জানান, কোটবাড়ী এলাকা থেকে পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া যৌথবাহিনীর অভিযানে কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে যুক্ত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অভিযান চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।

অভিযানের প্রেক্ষাপটে কুবি প্রক্টর অফিস শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। প্রক্টর অফিস সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে চলাচলের সময় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) সঙ্গে রাখতে হবে। মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ও কোটবাড়ী এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ অভিযান শুরু হলো।

অপ্রতিম হত্যার পর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ও বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পর কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরদিন শনিবার দুপুরে কুবির দক্ষিণ মোড় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর মানবজমিনে ‘আইফোন কাল হলো অপ্রতিমের’ ও ‘কোটবাড়ীতে কিশোর গ্যাংয়ের ‘রাজত্ব’’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ও পর্যটনকেন্দ্র-সংলগ্ন এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চুরি-ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের সামনে ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অপরিচিত কিশোর-তরুণদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ফলে রাতে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে অনেকেই ভয় পান। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

কুবির উপাচার্য ড. শরীফুল করিম মানবজমিনকে বলেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পর্যটনকেন্দ্র থাকায় নিয়মিত বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তাই নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।’

মামলার অগ্রগতি

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আইফোন ছিনিয়ে নিতে গিয়ে বাধার মুখে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তুহিনের বাসা থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিন আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং অন্য কেউ জড়িত কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত চার্জশিট দাখিলের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রোববার অপ্রতিমের জানাজা শেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এর মধ্যেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় যৌথবাহিনীর এ অভিযান শুরু হলো।

উল্লেখ্য, কিশোর গ্যাংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কুমিল্লায় একরাতে ৬২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিমের খুনের ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আবারও আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং এবং বখাটেদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।