এবার লিটনদের সামনে ‘সোনার রোমাঞ্চ’

এবার লিটনদের সামনে ‘সোনার রোমাঞ্চ’

ফন্ট সাইজ:

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সবুজে প্রস্তুতি ম্যাচের লড়াই শেষ, তখনও গায়ের জার্সি পুরোপুরি শুকায়নি লিটন দাসের। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২৫ মিনিট পর তড়িঘড়ি হাজির হলেন সম্মেলন কক্ষে। জাতীয় দলের অধিনায়কের জন্য এবারের পরিবেশ ও উপলক্ষটা একদমই আলাদা। সারা বছর ক্রিকেটাররা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেন, বিশ্বকাপ কিংবা এশিয়া কাপের মতো পরিচিত আইসিসি আসরে ছোটেন ট্রফির পেছনে। কিন্তু এবার লিটনদের গন্তব্য অন্য এক রোমাঞ্চ— এশিয়ান গেমস। এই মহাযজ্ঞে বাংলাদেশ সাধারণত ‘এ’ দল কিংবা দ্বিতীয় সারির স্কোয়াড পাঠালেও এবার যাচ্ছে শক্তিশালী জাতীয় দল। ক্যারিয়ারে বহু টুর্নামেন্ট খেললেও অলিম্পিক ঘরানার এমন আন্তর্জাতিক গেমসে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা লিটনের জন্যও প্রথম। ২০১০ সালে গুয়াংঝু এশিয়ান গেমসে ছেলেদের ক্রিকেট থেকেই এসেছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের একমাত্র সোনার পদক। এবারও অন্য ডিসিপ্লিনগুলোতে পদকের আশা যখন ক্ষীণ, তখন পুরো জাতির প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপ এই এগারো জনের কাঁধেই। চিরচেনা মিরপুরের পরিচিত আঙিনায় দাঁড়িয়ে সেই রোমাঞ্চ, অলিম্পিক স্বপ্ন ও দলের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন লিটন কুমার দাস। তার কথোপকথনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো—

প্রশ্ন: অনেক দিন পর প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন। সামনেই এশিয়ান গেমস। দলের সার্বিক প্রস্তুতি ও লক্ষ্য নিয়ে কী বলবেন?
লিটন দাস: প্রস্তুতি দারুণ হয়েছে। অনেক দিন পর দুটো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ হলো। জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর এই ক্যাম্প আর প্রস্তুতি ম্যাচগুলো দলের বন্ডিংটা আরও শক্ত করার বড় সুযোগ ছিল। প্রস্তুতির দিক থেকে আমরা খুব ভালো অবস্থায় আছি। আর লক্ষ্য তো একটাই— যেহেতু এটা একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য ফাইনাল নিশ্চিত করা এবং ফাইনালে গিয়ে দেশের জন্য সেরাটা দেয়া।
প্রশ্ন: ক্রিকেটাররা সাধারণত ট্রফির পেছনে ছোটেন, কিন্তু এখানে হাতছানি দিচ্ছে ‘সোনার পদক’। আবার ২০১০ সালের পর পদকের প্রত্যাশাও আপনাদের ঘিরেই। এই আকাশচুম্বী প্রত্যাশাকে কি বাড়তি চাপ মনে হচ্ছে, নাকি বড় সুযোগ?
লিটন: অবশ্যই এটি একটি অনন্য অনুভূতি। সচরাচর ক্রিকেটে জিতলে ট্রফি পাওয়া যায়, কিন্তু এখানে হাতছানি দিচ্ছে ‘সোনার পদক’। এটাই সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চ। প্রত্যাশা তো থাকবেই, আমি নিজেও বড় প্রত্যাশা নিয়েই যাবো। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই এই আসর নিয়ে অন্যরকম এক ক্ষুধা কাজ করছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ বা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বছর বছর পাওয়া যায়, কিন্তু এশিয়ান গেমস সচরাচর আসে না। এটি খুব বিরল সুযোগ। আমরা সবাই সেই সোনালি স্বপ্নটাই পূরণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।
প্রশ্ন: ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরছে। আপনি কি এশিয়ান গেমসকে সেই অলিম্পিক যাত্রার একটা সেতুবন্ধন হিসেবে দেখছেন?

লিটন: অলিম্পিক কে না খেলতে চায়? তবে সবার আগে আমাদের বর্তমানের দিকে তাকাতে হবে। আমরা যে ইভেন্টের জন্য যাচ্ছি, সেখানে যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি, তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এমনিতেই পৌঁছানো সম্ভব হবে। আমাদের মূল নজর এখন এশিয়ান গেমসে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়া এবং ফাইনাল খেলা। ফাইনালে গেলেই সোনা জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। ক্রিকেটের ব্যাকরণই হলো প্রতিটা ম্যাচ ধরে এগোনো। অলিম্পিকের ভাবনাটাও নিশ্চয়ই এখান থেকেই বেগবান হবে।
প্রশ্ন: অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটকে বেছে নেয়ার মূল কারণ কী মনে হয়? ফুটবলের মতো ক্রিকেটও কি এই ‘শর্ট অ্যান্ড শার্প’ সংস্করণের হাত ধরে বিশ্বজনীন হয়ে উঠছে?
লিটন: টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের মূল সৌন্দর্য হলো এটি ‘শর্ট অ্যান্ড শার্প’। টেস্ট পাঁচ দিনের খেলা, ওয়ানডেরও একটা লম্বা সময়সীমা আছে। কিন্তু অন্যান্য অলিম্পিক ইভেন্ট খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টিও সাড়ে তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে দ্রুত ফলাফল এনে দেয়। অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ হয়তো এই দ্রুতগতির চরিত্রের কারণেই একে বেছে নিয়েছে। ভবিষ্যতে তারা হয়তো অন্য ফরম্যাটের কথাও ভাবতে পারে, তবে বৈশ্বিক গেমসের জন্য এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টিই সবচেয়ে আদর্শ।

প্রশ্ন: দলে পেস বোলিং অলরাউন্ডার সংকট ও সাইফউদ্দিনের চোট নিয়ে ভাবনা কী? পাশাপাশি নিচের সারিতে একজন পাওয়ার হিটারের অভাব মেটানোর পরিকল্পনা কী?
লিটন: আমাদের যে তিনজন অলরাউন্ডার ছিল, দুর্ভাগ্যবশত তারা সবাই চোটে পড়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক কোনো বিকল্প দেখছি না। তবে কিছু তরুণ উঠে আসছে, কোচরা কাজ করছেন। আশা করি আগামী এক-দেড় বছরের মধ্যে ভালো কাউকে পেয়ে যাবো। আর পাঁচ বা ছয় নম্বরে ব্যাটিং করার মতো পাওয়ার হিটার বাংলাদেশে হাতে গোনা তিন-চারজনই আছে। ইয়াসির আলী রাব্বি জিম্বাবুয়েতে ভালো করায় ওর সুযোগ বেশি থাকবে। কন্ডিশন অনুযায়ী যাকে সবচেয়ে উপযোগী মনে হবে, আমরা তাকেই একাদশে রাখবো।