কাবাডিতে দুই কোচের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

কাবাডিতে দুই কোচের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

ফন্ট সাইজ:

কাবাডিতে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ নতুন নয়। সেই পুরনো কোন্দলের রেশ এবার এসে পড়েছে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসেও। দলের ভেতরের দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে মাঠে। জাপানের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর প্রকাশ্যে এসেছে দুই কোচ আব্দুল জলিল ও বাদশা মিয়ার দ্বন্দ্ব। সেই হারের পর পদক-সমীকরণ কঠিন হয়ে যাওয়ার মধ্যেই গতকাল ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৫-৪৮ পয়েন্টে পরাজিত হয় মিজানুর রহমানের দল।
এশিয়ান গেমস সামনে রেখে বাদশা মিয়ার অধীনেই চলছিল বাংলাদেশের প্রস্তুতি। মাস দুয়েক আগে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন ইসরাইল হাওলাদার। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রস্তুতিতে গতি আনতে হেড কোচ হিসেবে আব্দুল জলিলকে দলের সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্বের। বাদশা মিয়ার অভিযোগ, জলিল দলে যোগ দেয়ার পর থেকে তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। অন্যদিকে জলিল দায়িত্ব নিয়েই দলে পরিবর্তন আনতে চেয়েছেন। তার দাবি, দলের বাইরে থাকা কয়েকজন ভালো খেলোয়াড়কে সুযোগ দিলে দল আরও শক্তিশালী হতে পারতো।

জাপানের কাছে হারের পর মাঠেই দুই কোচের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যা সামনে নিয়ে আসে দলের ভেতরের সমন্বয়হীনতার চিত্র। বাদশা মিয়া বলেন, ‘ক্যাম্প শুরুর পর থেকে আমিই দলটাকে অনুশীলন করিয়েছি। এখন সবকিছুর নিয়ন্ত্রক আব্দুল জলিল ভাই। তিনি কারও কথাই শোনেন না।’
সমন্বয়হীনতার প্রভাব দেখা গেছে জাপান ম্যাচেও। বাংলাদেশের পাওয়া আট পয়েন্টের অধিকাংশই এসেছে জুলফিকার আকাশের হাত ধরে। ৬ ফুট উচ্চতার এই উদীয়মান খেলোয়াড় শুরুতে ভালো করলেও পরবর্তী সময়ে তাকে আর রেইডে পাঠানো হয়নি। দলের কৌশল ও খেলোয়াড় ব্যবহারে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
ম্যাচে অধিনায়ক মিজানুর রহমানও ছিলেন নিষ্প্রভ। কিন্তু তাকেও দীর্ঘ সময় মাঠে রেখেছেন প্রধান কোচ আব্দুল জলিল। অথচ খেলোয়াড় ও কোচ— দুই ভূমিকাতেই এশিয়ান গেমসে পদক জেতা জলিল ম্যাচ শেষে আকাশের পারফরম্যান্স নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তার ভাষায়, ‘প্রথম দুই ম্যাচে আকাশ ভালো খেললেও জাপান ম্যাচে সে প্রত্যাশিত নৈপুণ্য দেখাতে পারেনি।’

নিজেদের ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রক্ষণভাগের দুর্বলতার কথা স্বীকার করেছেন জলিল। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ‘আমাদের রক্ষণ আসলে প্রত্যাশিত মানের ছিল না। আরও কিছুদিন সময় পেলে এ জায়গায় উন্নতি করা যেতো।’ তবে কোচের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন বাদশা মিয়া। তার দাবি, ‘দল ঠিকই ছিল। মাঠে ঠিকঠাকভাবে খেলাতে পারলেই রেজাল্ট আমাদের পক্ষে আসতো।’ কাবাডি দলের ভেতরের এই দ্বন্দ্বের কথা জানেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও আইচি-নাগোয়া গেমসে সেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদও। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি সরাসরি দেখেছেন তিনি। তার চোখেও দলের ভেতরের সমস্যার ছাপ স্পষ্ট। ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘কাবাডিতে কোন্দল আছে। আমার মনে হয়, দলীয় কোন্দলের কারণেই তারা পদক হারিয়েছে। জাপানের বিপক্ষে আমি খেলা দেখেছি। দলের অভ্যন্তরে সমস্যা না থাকলে এত বাজে খেলতে পারে না।’ এদিকে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পরও ভাগ্যকে দায়ী করেছেন প্রধান কোচ আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, ‘এখানে আমাদের যতটুকু ট্রেনিংয়ের দরকার ছিল, তা নিয়ে আমরা এখানে আসতে পারিনি। তারপরও আমি বলবো ছেলেরা ভালো খেলেছে। ভাগ্যের দোষে আমাদের পদক প্রায় হাতছাড়া হয়ে গেছে।’