ভয়াবহ শিক্ষক সংকটে ভুগছে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো। অভিভাবক ছাড়াই চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশের ৫৮৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কর্মরত আছেন ২০৩ জন। অর্থাৎ সরকারি হিসেবেই প্রধান শিক্ষক নেই ৬৫ শতাংশ বা দুই তৃতীয়াংশ মাধ্যমিকেই নেই প্রধান শিক্ষক। শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকের পদেও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও সহকারী শিক্ষকের মোট ১৬ হাজার ৬০১টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৩ হাজার ১৯২ জন। শূন্য রয়েছে ৩ হাজার ৪০৯টি পদ। সহকারী প্রধান শিক্ষকের ৭২২টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৪৭৩ জন। শূন্য রয়েছে ২৪৯টি পদ। অর্থাৎ, এ পদেও প্রায় ৩৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদ রয়েছে বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকদের। এ ধরনের ১৫ হাজার ২৯৩টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৮ হাজার ৯০০ জন। এর বাইরে ৩ হাজার ৬১৬ জন শিক্ষক সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। ফলে বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকের সৃজনকৃত পদের মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য পদের হার প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ। বিষয়ভিত্তিক সহকারী শিক্ষকের পাশাপাশি সিনিয়র শিক্ষকের ৪ হাজার ৩০টি পদও শূন্য রয়েছে। তবে সৃজনকৃত পদের বাইরে অন্য পদের সংখ্যা যোগ করে শূন্য পদের হিসাব দেখানোর বিধান না থাকায় ওই পদগুলোকে মূল হিসাবের সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি।
শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একটি বিষয়ের শিক্ষককে অন্য বিষয়ের ক্লাসও নিতে হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা সম্ভব হলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিনের শূন্যতাও তৈরি করছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকট। বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম তদারকি, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, শ্রেণি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এ পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয় পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
মাউশি’র তথ্য অনুযায়ী, শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদেই নয়, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও জনবল সংকট রয়েছে। বিদ্যালয় পরিদর্শকের ১৬টি পদের সবগুলোই শূন্য। সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের ১৬টি পদও পূরণ হয়নি। সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৬৪টি পদের একটিতেও কর্মকর্তা নেই। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৬৪টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪১ জন। ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতেও জনবল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় অনেক ক্ষেত্রে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
মাউশি’র মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, শিক্ষকদের অবসর ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন কারণে পদ শূন্য হয়। শূন্য পদের চাহিদা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। পদ পূরণের বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।
দুই তৃতীয়াংশ সরকারি মাধ্যমিকে নেই প্রধান শিক্ষক
স্টাফ রিপোর্টার
২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
