আবাসন নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আরচারি দল

ফন্ট সাইজ:

পদকের আশায় জাপানে এসে আবাসন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ আরচারি দল। বিমান বন্দরে আট ঘণ্টা ট্রানজিটে বসে থাকার পর ক্রুজে এসে রুম বরাদ্দ পায়নি তারা। যে কারণে কোচকে আশ্রয় নিতে হয়েছে জিমন‍্যাস্টিক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জামিল ও কোচ মাসুমের রুমে। বাকি তিন কর্মকর্তাকে রাখা হয় হোটেলে, যেখানে কোন খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আরচারদের রাতে থাকতে হয় চার রুমে গাদাগাদি করে। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে এবার প্রচলিত কোনো ‘অ্যাথলেটস ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। খরচ কমানো ও স্থায়ী অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজন এড়াতে আয়োজকরা খেলোয়াড়দের জন্য হোটেল, অস্থায়ী কনটেইনার আবাসন ও ‘কোস্টা সেরেনা’ ক্রুজশিপে থাকার ব্যবস্থা করেছে। প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা এই বিকল্প আবাসন ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। বাংলাদেশের আটটি ডিসিপ্লিন— আরচারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি, টেবিল টেনিস ও উশু— ক্রুজশিপে থাকার কথা। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও আগেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ৭৯ জনকে ক্রুজে রাখার ৩১ রুম বরাদ্দ রেখেছিল আয়োজকরা। ১২ আরচার আর চার কর্মকতার জন্য বরাদ্দ ছিল আট রুমের। বিমান বন্দরে আট ঘণ্টা আর ওয়েলকাম সেন্টারে ৯ ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও নির্ধারিত রুম বুঝে পায়নি আরচারি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রুম বুঝিয়ে দেয়া হয়নি তাদের।

এ নিয়ে বাংলাদেশের শেফ দ্যা মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ হাসান বলেন, আমাদের জন্য ক্রুজে ৩১ জন্য বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও সবকটি রুম আয়োজকরা এখনও বুঝিয়ে দেয় নাই। যে কারণে আরচারিকে ঠিকমতো রুম বরাদ্দ দিতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা করছি তাদের ভোগান্তি নিরসনের।’ আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান বলেন, ‘আমরা ট্রানজিটে হংকংয়ে ৮ ঘণ্টা বসেছিলাম। এরপর রুমের জন্য ওয়েলকাম সেন্টারে এসে নয় ঘণ্টা ওয়েট। এরপরেও ঠিকঠাক রুম বরাদ্দ পায়নি। রুমে গাদাগাদি করে কোনো রকমে রাত কাটিয়েছে আরচাররা। সকালে নাস্তা না করেই প্র্যাকটিসে গেছি। আর যাই হোক এভাবে থেকে ভালো ফল সম্ভব না।’ পুরো অব্যবস্থাপনার জন্য অলিম্পিক এসোসিয়েশন কর্মকতাদের দায়ী করেন তানভীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের এয়ারপোর্টে আনতে যাওয়া হয়নি। এমনকি ওয়েলকাম সেন্টারেও নয় ঘণ্টা রুমের জন‍্য বসে ছিল আরচাররা, সেখানেও অলিম্পিকের কোনো কর্মকতার দেখা মেলেনি।’
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদরাও এবার এশিয়ান গেমসের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। আয়োজকদের বিরুদ্ধে কক্ষস্বল্পতা, অস্থায়ী আবাসনের সমস্যা এবং পরিবহনসংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ এসেছে। ভারতও আবাসন ও পরিবহন নিয়ে সমস্যায় পড়ে অতিরিক্ত হোটেল বুক করেছে।
বাংলাদেশ আরচারি দলের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আরচারিতে প্রস্তুতির সামান্য ব্যাঘাতও পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। এশিয়ান গেমসে আরচারি প্রতিযোগিতা শুরু হবে ২৬শে সেপ্টেম্বর এবং চলবে ৩রা অক্টোবর পর্যন্ত, ভেন্যু আইচি প্রিফেকচারের ওকাজাকি।