৪০০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা

৪০০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

ফন্ট সাইজ:

একটি অনলাইন পোর্টালের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সব ধরনের তদন্ত ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এসব তদন্ত কমিটি বাতিল ও প্রত্যাহার করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন।
আদালতে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী— চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস। রিটে শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারসহ মোট ৪৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত ৪ঠা আগস্ট ‘এশিয়া পোস্ট’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামের একটি গোপন গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষকেরা তৎপরতা চালাচ্ছেন। এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।

রিটকারীদের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি তুলে ধরা হয়, কোনো ধরনের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ছাড়াই কেবল একটি অনলাইন পোর্টালের খবরের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বরখাস্ত, বেতন স্থগিত, পদোন্নতি আটকে রাখা এবং বিভাগীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আইনজীবীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন একতরফা পদক্ষেপ সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২, ৩৯ ও ৪০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো তদন্ত সংস্থা বা আদালত নয় যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঢালাওভাবে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে শিক্ষক সমাজের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব কমিটি গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়: রিট আবেদনে একটি অনলাইন পোর্টালের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত সব তদন্ত কমিটি ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি বিলুপ্ত করার আবেদন নিষ্পত্তি না করাকে কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে যেসব শাস্তিমূলক বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাতিল করার বিষয়ে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া রুল চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় থাকাকালে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা হিসেবে শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। এতে বলা হয়, কেবল রাজনৈতিক বিশ্বাস, নিজস্ব মতামত প্রকাশ কিংবা বৈধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে কোনো শিক্ষক যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য, হুমকি, পেশাগত ক্ষতি বা প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন—তা নিশ্চিত করতে বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

পাশাপাশি আবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও নিরাপদ অ্যাকাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা চাওয়া হয়, যাতে করে শিক্ষকেরা নির্ভয়ে তাদের নিয়মিত পাঠদান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন অব্যাহত থাকে।