টাকার অভাবে কি নিভে যাবে সাংবাদিক ইসাহাকের জীবন?

টাকার অভাবে কি নিভে যাবে সাংবাদিক ইসাহাকের জীবন?

ফন্ট সাইজ:

সারাজীবন অন্যের কষ্টের গল্প লিখে, মানুষের অভাব-অনটনের চিত্র সংবাদপত্রে ফুটিয়ে তুলে যে মানুষটি জীবনের বড় একটি সময় পার করে দিলেন— আজ তিনি নিজেই এক করুণ মানবিক গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। বলছিলাম মানবজমিনের নাটোর জেলা প্রতিনিধি ইসাহাক আলীর কথা।

সাংবাদিকতা এক অদ্ভুত পেশা। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা যেকোনো দুর্যোগে নিজের সুখ-আহ্লাদ, ব্যক্তিগত কষ্ট ও পরিবারের আবদারগুলোকে বুকের গহিনে মাটিচাপা দিয়ে এই পেশার মানুষগুলো ছুটে চলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কিংবা অন্যকে উদ্ধারের বার্তা নিয়ে। কিন্তু দিনশেষে এই সৎ সাংবাদিকদের জীবন জুড়ে থেকে যায় কেবলই এক দীর্ঘশ্বাস। নিজের সংসার, সন্তান কিংবা বাবা-মায়ের ছোট ছোট চাওয়া পূরণ করতে গিয়েও তাদের হিমশিম খেতে হয়। ইসাহাক তেমনই এক নিবেদিতপ্রাণ ও সৎ সাংবাদিক। কিন্তু নিয়তির নির্মম বাস্তবতা এত অল্প বয়সে তাকে এমন কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করাবে, তা তিনি বা তার পরিবার কখনো কল্পনাও করতে পারেননি। কিছুদিন আগে হঠাৎ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় ঢলে পড়েন তিনি। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছোটাছুটি আর চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কিছুটা সুস্থ হতেই, একপাশ অবশ অবস্থাতেই আবারো হাতে তুলে নেন সাংবাদিকতার কলম, নেমে পড়েন মাঠে। তবে সেই স্বস্তিও বেশিদিন স্থায়ী হলো না। বিধাতা তাকে ফের এক কঠিন পরীক্ষায় ফেললেন।

সম্প্রতি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইসাহাক আলীর দু’টি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। ভারতে বা দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে এই চিকিৎসা করাতে প্রয়োজন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। একজন সৎ সাংবাদিকের পক্ষে এত বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। নিজের ভিটেমাটি বিক্রির চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসার খরচের তুলনায় তা খুবই সামান্য। বর্তমানে জীবনের শেষ সীমান্তে দাঁড়িয়ে, আল্লাহর ওপর ভরসা করে নিজ ঘরের বিছানায় নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছেন। ইসহাকের এই ক্রান্তিকালে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সহকর্মী ও সমাজের হৃদবান মানুষের পাশে দাঁড়ানো। অসহায় স্ত্রী আর ছোট ছোট অবুঝ সন্তানগুলোর দিকে তাকালে চোখের পানি ধরে রাখা যায় না। টাকার অভাবে কি এভাবেই একজন সাংবাদিকের প্রদীপ নিভে যাবে?

সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে বিনীত আকুতি, আসুন এই দুর্যোগে আমরা একজন নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়াই। খুব দ্রুত তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো না গেলে হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবেন তিনি। আপনার সামান্য সহযোগিতাই পারে একটি পরিবারকে টিকে থাকার পথ দেখাতে, ফিরিয়ে দিতে একজন বাবার জীবন।