লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। কোটবাড়ীর পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা নির্জন পথ। সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে কিশোর-তরুণদের আনাগোনা। কেউ মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, কেউ দলবেঁধে ঘোরে পাহাড়ি এলাকায়। এসব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, চুরি-ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে। নানা সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। এ কারণেই সর্বশেষ অপ্রতিম হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় ও পর্যটনকেন্দ্র ঘেঁষা বিশাল এলাকায় স্থায়ী পুলিশি নজরদারির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তুহিন ছাড়া অন্য দু’জন কিশোর। এ তিনজনের বাইরে আরও এক তরুণের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি তুহিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে আইফোনের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্যও পাওয়া গেছে।
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে কুমিল্লার সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতর অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন আইফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টিই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র কারণ কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপ্রতিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়সের বড় ব্যবধানের কারণে তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের সম্পর্ককে ‘অসম বন্ধুত্ব’ হিসেবে দেখছেন। তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি, ভিডিও এবং টিকটকের জন্য তৈরি বিভিন্ন ভিডিও’র তথ্যও তদন্তে এসেছে।
কোটবাড়িতে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার: অপ্রতিম হত্যার পর কোটবাড়ি-সালমানপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কোটবাড়ির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে ‘ফ্লাইং বার্ডস’, ‘কিংস অব কোটবাড়ি’, ‘কেজিবি জেআর’সহ একাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্রুপে শতাধিক সক্রিয় সদস্য রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব গ্রুপের সদস্যরা বিভিন্ন সময় পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়ায়। তাদের দাবি, তুহিনেরও একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে। কোটবাড়ির পাহাড়ি টিলার উপর তুহিনদের একটি খামার রয়েছে এবং অপ্রতিমকে সেখানে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল বলেও স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন।
সালমানপুরের বাসিন্দা মামুন বলেন, ‘তুহিন এর আগেও নানা অপকর্মে জড়িত। তার পরিবার থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর আগে সে মোটরসাইকেল চুরি করেছে। নিয়মিত নেশা করে তুহিন।’
স্থানীয়রা জানায়, তুহিন ও অভির পৃথক কিশোর গ্যাং রয়েছে। তাদের কয়েকজনকে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধের অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে চাননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোটবাড়ি এলাকায় পরিবার ও সামাজিক পরিবেশের একটি অংশও কিশোরদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে অনেকে মনে করেন। এ এলাকার অনেক পরিবারের মধ্যে প্রবাসী আছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কোনো কোনো পরিবারে একজন বিদেশে থাকলে পরিবারের তরুণ সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকা ঘুরে বেড়ায়। অনেকে কাজ করতে চায় না। এমন কিশোর, তরুণরাও কিশোর গ্যাং-এ ঢোকে।
আগেও উঠেছিল অভিযোগ: তুহিনের বিরুদ্ধে এর আগেও মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেছেন আসাদুল্লাহ সোহাগ নামে এক যুবক। তার অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তুহিন তার মোটরসাইকেল নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। ২০২৫ সালের ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও মামলা না নিয়ে জিডি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, ম্যাজিক প্যারাডাইসসহ একাধিক পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনার পাশাপাশি এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সরজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোর-তরুণদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তাদের অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও অপরিচিত কিশোর-তরুণদের আনাগোনা বাড়ে। বর্তমানে রাতে ক্যাম্পাসের কেউ কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে বের হয় না, হলেও সেটা খুব কম।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ বলেন, ‘রাতে ক্যাম্পাসের সামনে এখন বেশির ভাগ মানুষই আমাদের কাছে অপরিচিত। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয়। কিন্তু সন্ধ্যার পর তাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। ক্যাম্পাসের পাহাড়গুলোতেও তাদের দেখা যায়। এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত এসব ছেলেদের অনেকেই মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করে।’
আরেক শিক্ষার্থী আদিব বলেন, ‘একসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় কিছু গ্রুপের সঙ্গে মিশে জাদুঘর ও আশপাশের এলাকায় বিশৃঙ্খলা করতে দেখা যেতো। তবে তখন ক্যাম্পাস এলাকায় বহিরাগতদের এমন আনাগোনা ছিল না। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্যাম্পাস ও কোটবাড়ি এলাকায় বহিরাগত কিশোর-তরুণদের আনাগোনা বেড়েছে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কোটবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় অপরিচিত মুখের আনাগোনা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। সন্ধ্যার পর মোটরসাইকেলে দলবেঁধে ঘোরাফেরা, পাহাড়ি এলাকায় অবস্থানসহ নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি না থাকায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর রাজারখোলা ও সানন্দা নতুন ক্যাম্পাসের দিকে অনেক যানবাহন যেতে চায় না। অতীতে ওই এলাকার নির্জন পাহাড়ি ও জঙ্গলে মাদকসেবী তরুণদের চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকায় চালকদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মিশতো’ অপ্রতিম: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ইসরাফিল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, অপ্রতিমের পরিচিতদের মধ্য থেকেই কয়েকজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের বয়স কম হলেও সে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে মিশতো এবং যাদের সঙ্গে আড্ডা দিতো, তাদের কয়েকজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপ্রতিম ছিল চঞ্চল ও মিশুক স্বভাবের। সপ্তম শ্রেণিতে পড়লেও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার ভালো সখ্য ছিল। তার যোগাযোগ দক্ষতাও ভালো ছিল। স্কুলে তার কোনো বড় ধরনের সমস্যা শিক্ষকদের নজরে আসেনি। তবে সে মাঝেমধ্যে রাত করে বাসায় ফিরতো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার তুহিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে মাদক সরবরাহ করতো। তাদের দাবি, ফোনে যোগাযোগ করা হলে তুহিন রুমে মাদক পৌঁছে দিতো। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দারও দাবি, তুহিনের কর্মকাণ্ডে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন কোনো পরিবর্তন তারা দেখেননি। এর আগেও বিভিন্ন অপকর্মে তার জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ছিল।
অপ্রতিমের বিষয়ে বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের শিক্ষক মো. নাজমুল হাসান মানবজমিনকে বলেন, স্টুডেন্ট হিসেবে সে নিয়মিত ছিল। মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার কোনো খারাপ কিছুই দেখিনি আমরা। স্কুলেও সিনিয়রদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। স্কুলের সকল কো-কারিকুলাম এক্টিভিটিজে সে অংশ নিতো। যেসব শিক্ষক আমরা ক্লাস নিতাম— সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল।
এসব বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শরীফুল করিম মানবজমিনকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরেই আমাদের শিশুটির লাশ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে পর্যটনকেন্দ্র থাকায় নিয়মিতই বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এ কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা ও নজরদারির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
আদালতে তিন আসামির দায় স্বীকার
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা থেকে জানান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। অপর দু’জন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা— তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ফাহাদ অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী: হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ঘাতক মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান। মাত্র ১৬ দিন আগে সে চাকরিতে যোগ দেয়। এখনো তার সঙ্গে চুক্তিপত্র হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই ধস্তাধস্তির সময় বাঁশ দিয়ে অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করে মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন। এরপরই আঘাত করে ফাহাদ। তারপর মো. কামরুল হাসান। তারা মৃত্যু নিশ্চিত করে। তিনজনই হত্যাকারী। তিনজনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল পুলিশকে জানিয়েছে শুধুমাত্র আইফোনটি ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করতে হয়েছে।
অপ্রতিমের বাবার মোবাইল সরঞ্জামাদির শোরুম রয়েছে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট মার্কেটে। নাম ইয়েসটেক। তাদের গন্ধমতি কোটবাড়ি বাসা, মায়ের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়— সবই কাছাকাছি এলাকায়। ব্যবসাটির পার্টনারশিপ রয়েছে। দুইজন মিলে করছেন। ফাহাদের বাসাও কাছাকাছি একই এলাকার। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে ফাহাদ। তার বাবা পেশায় অটোচালক। বাবা-মায়ের অনুরোধেই চলতি মাসের ২ তারিখ তাকে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ফাহাদ ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। হত্যায় জড়িত সবাই বখাটে। অনিয়মিত, কিংবা ঝরে পড়া ছাত্র। এদিকে, কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক দুই কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালক) পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে দুই কিশোরকে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নেয়া হয়। শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই দুই কিশোরের বয়স ১৫ ও ১৬ বছর। তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় আদালতের নির্দেশে কারাগারের পরিবর্তে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
