মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে, ১৬৫৬ সালে, এক ‘বিনীত আবেদনের’ প্রেক্ষিতে, বাংলা প্রদেশের হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তার প্রথম কারখানাটি স্থাপনের অনুমোদন লাভ করে। এই রাজকীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, অল্প সময়ের ব্যবধানে, তার উড়িষ্যাস্থ বালাসোরের কারখানার সম্প্রসারণসহ বাংলা প্রদেশের কাশিমবাজার ও পাটনায় আরও দু’টি কারখানা স্থাপন করে। ইংরেজ বণিকরা যখন সম্রাট শাহজাহানের দরবারে ভারতে ‘কারখানা’ স্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করে, তখন ভারতবর্ষের নানা প্রান্তে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর বিদ্রোহের ফলে মুঘল সাম্রাজ্য ভেতরের দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছিল। তথাপি, ব্রিটিশ বণিকরা দিল্লির সম্রাটের দরবারে অত্যন্ত বিনয়ী আচরণ প্রদর্শন করেছিল। এ সময়কালে ভারতবর্ষের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ও তার প্রেক্ষিতে ইংরেজ বণিকদের আচরণ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর্যবেক্ষণ রীতিমতো প্রণিধানযোগ্য। ঠাকুর লিখেছেন, “[তখন] মোগল-সাম্রাজ্যের পতনোন্মুখ প্রবেশদ্বারে ইংরাজ বণিক সম্প্রদায় অত্যন্ত দীনভাবে দণ্ডায়মান। তখন ভারতক্ষেত্রে সংহারশক্তি যতপ্রকার বিচিত্র বেশে সঞ্চরণ করিয়া ফিরিতেছিল, তন্মধ্যে সর্বাপেক্ষা সাধু শান্ত ও দরিদ্র বেশ ছিল ইংরাজের। মারাঠি অশ্বপৃষ্ঠে দিগ-দিগন্তরে কালানল জ্বালাইয়া ফিরিতেছিল, শিখ ভারতের পশ্চিম প্রান্তে আপন দুর্জয় শক্তিকে পুঞ্জীভূত করিয়া তুলিতেছিল, মোগল-সম্রাটের রাজপ্রতিনিধিগণ সেই যুগান্তরের সন্ধ্যাকালে ক্ষণে ক্ষণে বিদ্রোহের রক্তধ্বজা আন্দোলন করিতেছিল, কেবল কয়েকজন ইংরাজ সওদাগর বাণিজ্যের বস্তা মাথায় করিয়া সম্রাটের প্রাসাদসোপানে প্রাসাদচ্ছায়ায় অত্যন্ত বিনম্রভাবে আশ্রয় লইয়াছিল।২৯ এই ‘বিনম্র’ ইংরেজ বণিক সম্প্রদায় কয়েক দশকের মধ্যেই তার ‘উদ্ধত’ রূপ নিয়ে ভারতের বাংলা প্রদেশে আত্মপ্রকাশ শুরু করবে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে, ইংরেজ বণিকের বাণিজ্যের ‘মানদণ্ড’ তার ঔপনিবেশিক শাসনের ‘রাজদণ্ড’ রূপে আবির্ভূত হওয়ার জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ প্রেক্ষাপটটি রচিত হয় ১৬৮৬ সালে, বাংলায় মুঘল প্রতিনিধি সুবেদার শায়েস্তা খানের (১৬০০-১৬৯৪) আমলে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কারখানা ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রথমে কোম্পানির ‘এজেন্ট’ ও পরে কোম্পানির স্থানীয় গভর্নর, জোব চার্নককে (১৬৩০-১৬৯৩) বাংলায় সুবেদার কর্তৃক একটি সাধারণ দুর্গ নির্মাণের অনুমোদন দানের মাধ্যমে। এই অনুমোদনপ্রাপ্তির তিন বছর পর, ১৬৯০ সালে, জোব চার্নক কোম্পানির তরফে, ১৩০০ রুপির বিনিময়ে, হুগলি নদীর পূর্ব তীরবর্তী সুতানটি, গোবিন্দপুর ও দিহি-কালকুট্টা নামক তিনটি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত একটি পুরনো ‘জমিদারি’ ক্রয় করে ভারতে প্রথম ব্রিটিশ ‘বসতি’ স্থাপন করে।৩০ ব্রিটিশ কোম্পানির এই জমিদারিতেই, ১৬৯৬ সালে, কোম্পানি তার দুর্গ নির্মাণ করে— যা পরবর্তীকালে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের (১৬৫০-১৭০২) নামানুসারে ফোর্ট উইলিয়াম নামে পরিচিত হয়। কালক্রমে, কোম্পানির এই জমিদারি এলাকাটিই কলিকাতা শিল্প ও বাণিজ্য নগরী হিসেবে বিকশিত হয়। এভাবে, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষে, ভারতে মুম্বই ও মাদ্রাজে একটি করে দুর্গসহ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দু’টি বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠে।
কিন্তু বাংলায় কোম্পানির ‘বৈধ’ বাণিজ্যিক কার্যক্রমের আড়ালে, বিনা শুল্কে কোম্পানি-কর্মকর্তাদের ‘অবৈধ ব্যক্তিগত ব্যবসা’ পরিচালনা ও বাংলার নবাবের পূর্বানুমোদন ছাড়া কলিকাতা দুর্গের সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের পরিণতি হিসেবে, উভয় পক্ষের ভেতর ১৭৫৭ সালে সংঘটিত একটি প্রতারণামূলক যুদ্ধে বাংলার নবাব বাহিনীর পরাজয় ও নবাবের হত্যাকাণ্ডের মধ্যদিয়েই ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সিংহদ্বার উন্মোচিত হয়।
এই সংঘাতের ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে, সম্রাট আওরঙ্গজেবের (১৬১৮-১৭০৭) মৃত্যুর পর, মুঘল সাম্রাজ্যের কেন্দ্রের দিল্লির সঙ্গে বাংলা প্রদেশসহ তার কয়েকটি প্রদেশের পুরনো অটুট সম্পর্ক ক্রমশ শিথিল হতে শুরু করে এবং পরবর্তী দশ বছরের মধ্যে, মুঘল সম্রাটের একদা বিশ্বস্ত প্রতিনিধি মুর্শিদ কুলি খানের (১৬৬০-১৭২৭) শাসনামলে, বাংলা কার্যত স্বাধীন প্রদেশে পরিণত হয়। তারপর, নবাব আলিবর্দী খানের (১৬৭১-১৭৫৬) জীবনাবসান পর্যন্ত বাংলার এই ‘স্বাধীন’ প্রশাসনিক ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু ১৭৫৬ সালের এপ্রিলে আলিবর্দীর মৃত্যুর পর তার তরুণ দৌহিত্র সিরাজ-উদ-দৌলা (১৭৩৩-১৭৫৭) নবাব হিসেবে অভিষিক্ত হলে, বাংলার তৎকালীন রাজধানী মুর্শিদাবাদে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতাকেন্দ্রিক প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং সেই নাজুক অবস্থার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ কোম্পানির কর্মকর্তারা একদিকে নিজেদের অবৈধ বাণিজ্যিক তৎপরতা বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে নতুন নবাবের পূর্বানোমদন ছাড়াই, কলিকাতা দুর্গ সম্প্রসারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এমতাবস্থায়, বাংলার সার্বভৌমত্ব ও নিজের ক্ষমতা সংহত করার উদ্দেশ্যে, একই বছরের জুনে, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে কলিকাতা দুর্গ আক্রমণ করে আপন অধিকারে নিয়ে আসেন। ইংরেজ কোম্পানির বণিক ও কর্মকর্তাদের অধিকাংশই নদীপথে পালিয়ে প্রাণরক্ষা করে, অনেকে নবাব বাহিনীর হাতে বন্দি হয়— যাদের একাংশ নবাবের কয়েকজন কর্মকর্তার একটি বিভ্রান্তিজাত সিদ্ধান্তের কারণে বন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এমতাবস্থায়, নবাব ও কোম্পানির মধ্যে নতুন সমঝোতার ভিত্তিতে সিরাজ দুর্গ ত্যাগ করেন এবং কোম্পানির ব্যবসা-বাণিজ্য অব্যাহত রাখার অনুমোদন দান করেন। কিন্তু কোম্পানির কর্মকর্তাদের একাংশ মুর্শিদাবাদে সিরাজের প্রতিপক্ষ চক্রের সঙ্গে গোপন যোগসাজশের মাধ্যমে বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে এবং তার প্রতারক প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের (১৬৯১-১৭৬৫) সঙ্গে অবৈধ আঁতাত গড়ে তোলে। এই আঁতাতের কুফল হিসেবে, সিরাজের কলিকাতা দুর্গ আক্রমণ ও অধিকারের ঠিক এক বছর পর, ১৭৫৭ সালের জুনে, কোম্পানির সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে পলাশীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মীর জাফরের নেতৃত্বাধীন নবাব বাহিনীর এক প্রতারণামূলক যুদ্ধে, নবাব সিরাজ পরাজিত হন এবং পরবর্তী কয়েকদিনের মধ্যেই মীর জাফরের পুত্র মিরনের হুকুমে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ইতিপূর্বে, সিরাজ-বিরোধী ষড়যন্ত্রের ইংরেজ হোতা, প্রথমে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা ও পরে কোম্পানির স্থানীয় গভর্নর, রবার্ট ক্লাইভ (১৭২৫-১৭৭৪), মীর জাফর আলী খানকে নতুন নবাব হিসেবে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে দেন এবং নিজের ও কোম্পানির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ পারিতোষিক হিসেবে গ্রহণ করেন। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মৃত্যু ও মীর জাফরের নবাবী লাভের মধ্যদিয়েই বাংলায়, প্রকারান্তরে, ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত ঘটে।
এদিকে, মীর জাফরের ওপর উত্তরোত্তর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও একের পর এক অন্যায় দাবি চাপিয়ে দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, ব্রিটিশ কোম্পানির সঙ্গে তার বিরোধ ঘনীভূত হয় এবং উভয়ের সম্পর্কের ভেতর একটি ভারসাম্য আনয়নের লক্ষ্যে মীর জাফর ব্রিটিশ কোম্পানির বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী ডাচ্ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে আঁতাত গড়ে তোলেন। কিন্তু এই আঁতাতে ক্ষিপ্ত হয়ে, ব্রিটিশ কোম্পানির কর্তৃপক্ষ, ১৭৬০ সালে, ডাচ্ সৈন্যবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে পরাজিত করে এবং মীর জাফরকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারই জামাতা মীর কাশিম আলী খানকে নবাব হিসেবে অধিষ্ঠিত করে।
মীর কাশিম বাংলার নবাব হিসেবে অধিষ্ঠিত হলে, বিনা শুল্কে ব্রিটিশ বাণিজ্যের অন্যায় দাবিকে কেন্দ্র করে কোম্পানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বিরোধ বাধে। বিরোধের এক পর্যায়ে, মীর কাশিম অপরাপর ইউরোপীয় কোম্পানির ওপর থেকেও বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার করেন। ফলে, ভারতে নিজেদের একচেটিয়া বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, ব্রিটিশ কোম্পানি মীর কাশিমের ওপরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকেও গদিচ্যুত করার প্রয়াস গ্রহণ করে। এমতাবস্থায়, কোম্পানির অন্যায় প্রভাব থেকে মুক্তির লক্ষ্যে, নবাব মীর কাশিম পার্শ্ববর্তী রাজ্য অউধের নবাব সুজাউদ্দৌলা ও দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সক্রিয় সহযোগিতায়, ১৭৬৪ সালের অক্টোবরে, বিহারের বক্সার নগরে কোম্পানির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কিন্তু সেই যুদ্ধে, প্রধানত বিশাল যৌথ বাহিনীর ভেতরকার সমন্বয়হীনতার কারণে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনী জয়লাভ করে; আর যুদ্ধে পরাজয়ের মাধ্যমে মীর কাশিম তার সৈন্যদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান এবং সুজাউদ্দৌলাও তাকে অউধ থেকে বহিষ্কার করেন। ফলে, তিনি অজানার উদ্দেশ্যে বিহার ত্যাগ করেন এবং দিল্লির কোনো এক অঞ্চলে, ১৭৭৭ সালে, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে অসহায় অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ইতিপূর্বে, বক্সারে যুদ্ধ-বিজয়ের পর ব্রিটিশ কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বাংলার নবাবের শূন্য পদে মীর জাফর আলী খানের কিশোর পুত্র নাজিম-উদ-দৌলাকে (১৭৪৭-১৭৬৬) নবাব হিসেবে অধিষ্ঠিত করে এবং তার যাবতীয় প্রশাসনিক ও রাজস্ব আদায়ের এখতিয়ার কেড়ে নিয়ে তা নিজের কুক্ষিগত করে। ওদিকে, বলা হয়ে থাকে, বক্সারের যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে শুধু বাংলার ওপরই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চূড়ান্ত প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়নি, ভারতবর্ষের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে তার কর্তৃত্ব সম্প্রসারণের পথও উন্মুক্ত হয়। কেননা, বক্সারের যুদ্ধ জয়ের পরের বছরেই, ১৭৬৫ সালের আগস্ট মাসে, ঐতিহাসিক ‘এলাহাবাদ চুক্তি’র অধীনে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্থানীয় গভর্নর লর্ড ক্লাইভ, কোম্পানির তরফে, দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের (১৭২৮-১৮০৬) কাছ থেকে, বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা দিল্লির দরবারে জমা দেয়ার শর্তে, বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার, ফৌজদারি এখতিয়ারসহ ‘দেওয়ানি’, অর্থাৎ ভূমি-রাজস্ব আদায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ নানা সংঘাত নিরসনের জন্য আদালত পরিচালনার কর্তৃত্ব লাভ করে।
এটা ছিল অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, ১৭৬০ সালে ব্রিটিশ শিল্প বিপ্লব শুরু হওয়ার অব্যবহিত পরের সময়কাল, ‘যখন’, প্রখ্যাত ভারতীয় ইতিহাসবিদ বিপান চন্দ্রের (১৯২৮-২০৯৪) ভাষায়, “ব্রিটেন পৃথিবীর একটি শীর্ষস্থানীয় উন্নত পুঁজিতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিকশিত হতে শুরু করেছে, আর ভারতবর্ষ অনুন্নয়নের পথে অগ্রসর হয়ে পৃথিবীর একটি অন্যতম পশ্চাৎপদ ঔপনিবেশিক দেশে পরিণত হতে শুরু করে।”৩১
তথ্যসূত্র:
২৯. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, “সিরাজদ্দৌলা”, প্রবন্ধ সমগ্র, পৃষ্ঠা: ৫৭৯
৩০. Tirthankar Roy, The East India Compaû, p. ৮৯
৩১. Bipan Chandra, ‘The Impact of British Rule’, Bipan Chandra and others, Freedom Stuggle, p. 16 c’v¸³, p. 16-17
