ন্যাটোকে আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে পারে মস্কো

ইউরোপের গোয়েন্দা প্রধানদের সতর্কবার্তা

ন্যাটোকে আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে পারে মস্কো

ফন্ট সাইজ:

অদূর ভবিষ্যতে ন্যাটোকে আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে পারে রাশিয়া। এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাদের একজন বলেছেন, ‘বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মাসের মধ্যেই’ ন্যাটোর ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে রাশিয়া। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান। এর আগে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড তুস্ক পার্লামেন্টে বলেন যে, গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাশিয়া ন্যাটোর ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এর মাধ্যমে মস্কো প্রমাণ করতে চাইতে পারে যে, ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’ বাস্তবে যতটা কার্যকর বলে মনে করা হয়, তা আসলে তার চেয়ে বেশি তাত্ত্বিক।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ওই সতর্কবার্তাকে ‘যথার্থ ও তথ্যপ্রমাণসমৃদ্ধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও বিভিন্ন দলের নেতাদের প্যারিসে জরুরি বৈঠকে ডাকেন। সেখানে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে বাড়তে থাকা হুমকি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যও আলোচনা করা হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় পক্ষের বিমান হামলা যখন আরও তীব্র হচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসতে যাচ্ছে, তখন ইউরোপে এই উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোববার ভোরে কিয়েভ মস্কোসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণের শেষ দিনে এটি ছিল যুদ্ধের অন্যতম বড় বিমান হামলা। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন স্থানে দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের তিনজন গোয়েন্দা প্রধান মস্কোর সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে তাদের মতামত জানিয়েছেন। তাদের একজন চেক প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিশাল কুদেলকা। প্রাগে সংস্থাটির সদর দপ্তরে দেয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে তিনি রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে বলেন, এটা সম্ভব। এর মধ্যে সীমিত অনুপ্রবেশ, সাজানো উসকানি বা ফলস-ফ্ল্যাগ কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতি ‘বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মাসের মধ্যেই’ হামলা হতে পারে।

লাতভিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ভিডিডির মহাপরিচালক নরমুন্ডস মেজভিয়েটস রিগা’য় সংস্থাটির সদর দপ্তরে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা আসন্ন কোনো হামলার ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি না। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইউরোপে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মস্কো প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন কিছু লক্ষণ রয়েছে। কিন্তু এসব প্রস্তুতি কেবল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কৌশলের অংশ কি না, তা স্পষ্ট নয়। শনিবার এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব জোনাথন ভসেভিওভ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আতঙ্কের’ সমালোচনা করেন। এক্সে তিনি লিখেছেন, যদি কোনো হামলার আশঙ্কা করার কারণ থাকে, তাহলে নিশ্চিন্ত থাকুন- আমরাই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানাব। ততক্ষণ শান্ত থাকুন, কাজ চালিয়ে যান এবং ইউক্রেনকে সমর্থন করুন।