ওসির কক্ষে ঢোকাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর

ওসির কক্ষে ঢোকাকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ওসির কক্ষে ঢোকাকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক নেতার সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর জেরে ওই বিএনপি নেতা ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী নিয়ে থানা ও পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করে।
রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানায় ওসির সাথে বিএনপি নেতার বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে বিএনপির ওই নেতা থানার প্রধান ফটক, পাশের ট্রাফিক বক্সে ভাঙচুর করে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আরিফ রব্বানী ওরফে টুটুল। তিনি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার ঈশ্বরগ্রাম এলাকায়।

পুলিশের ভাষ্য, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ঢুকতে চান। এ সময় দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল বকুল মিয়া তাকে জানান, ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করছেন। তাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। এতে তিনি ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি শুনে ওসি ও অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তখন ওসির সঙ্গেও তার কথাকাটাকাটি হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় যুবদল কর্মী সুমন, আদিলসহ কয়েকজন তখন থানায় ছিলেন। তারা আরিফ রব্বানীকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান। কারো সঙ্গে ধস্তাধস্তি বা গায়ে হাত দেয়ার ঘটনা ঘটেনি।’
ওসি বলেন, ‘রাত ১০টার একটু আগে তিনি থানার বাইরে যাওয়ার সময় দেখতে পান, অনেক লোক লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে থানার দিকে আসছেন। তাদের পেছনে আরিফ রব্বানীও ছিলেন। তিনি ওয়্যারলেসে থানায় খবর দেন। পরে কয়েকজন লোক থানার গেটে এসে ভাঙচুর করেন। থানার পাশের ট্রাফিক বক্সে আঘাত করে কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হয় এবং কয়েকটি রড বাঁকা করা হয়।’
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ সময় আশপাশের বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন লোক তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা গেটের কাছে পৌঁছালে তারা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরিফ রব্বানীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আরিফ রব্বানী থানায় কোনো অভিযোগ দিতে গিয়েছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ওসির কক্ষে ঢুকার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কিছু লোক থানায় এসেছিলেন। থানায় ভাঙচুরের ঘটনা তিনি নিজে দেখেননি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেয়া হবে।’

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, ‘থানায় হামলার ঘটনা কোনোভাবেই হতে পারে না। তারপরও যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তাহলে আমরা সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘থানায় ওসির কক্ষে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে একটি ঘটনা ঘটেছে। ওসিকে বিস্তারিত জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’