নিহত বেড়ে ৮, আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গাড়িতেও

আশুলিয়ায় গ্যাস বিস্ফোরণ

নিহত বেড়ে ৮, আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের গাড়িতেও

ফন্ট সাইজ:

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলে সিলিন্ডারের আঘাতে এক নারী এবং কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে উদ্ধার করা পাঁচজন রয়েছেন।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একজন কাঁচামাল বিক্রেতা নজরুল ইসলাম (৩০)। আর অন্যজনের নাম বুলবুল। পুড়ে চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানা চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাভার্ডভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে থাকা একাধিক গাড়িতেও।
নিহতদের মধ্যে একজন জয়নব বেগম (৫৫)। তিনি আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইসরকান্দি এলাকার মো. আলীর স্ত্রী। ঘটনার সময় তিনি দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে মেয়ের কর্মস্থল একটি টেইলার্সের দোকানে ছিলেন। বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে একটি সিলিন্ডার ছিটকে গিয়ে ওই দোকানের টিনের ছাদ ভেদ করে তার মাথায় লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত জয়নবের মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, তার মা তার কাছে বেড়াতে এসেছিলেন। ঘটনার সময় তিনি টেইলার্সে কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের পর ছিটকে আসা সিলিন্ডারের আঘাতে তার মা মারা যান। এ সময় আশপাশের আরও কয়েকজন আহত হন।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর পোড়া একটি কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে মরদেহগুলো এতটাই পুড়ে যায় যে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয় চারজনকে। তাদের মধ্যে কাঁচামাল বিক্রেতা নজরুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে তারা আশুলিয়ার শিমুলতলা এলাকায় থাকেন। তার বাবা ওই কারখানার সামনের রাস্তায় পেঁয়াজ-রসুনসহ কাঁচামাল বিক্রি করতেন। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অপর আহতরা হলেন—কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫) এবং গ্যাস পরিবহনের গাড়িচালক নুর ইসলাম (৩০)। সুজন ও মোখলেস বিস্ফোরণে ছিটকে আসা লোহার বিভিন্ন সামগ্রী, ইটপাটকেল ও কাচের আঘাতে আহত হন। আর নুর ইসলাম বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
নুর ইসলামের ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তিনি ভোলায় থাকতেন এবং গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালাতেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথম বিস্ফোরণের পরপরই কারখানা এলাকায় আরও কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার জানালার কাচসহ বিভিন্ন বস্তু ছিটকে আশপাশে পড়ে। এতে কারখানার বাইরে থাকা পথচারী ও কাঁচামাল বিক্রেতারাও আহত হন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ঢাকা জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, আগুনের খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। রাত ৮টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যান থেকে সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। আগুনে কারখানা চত্বরে থাকা পাঁচ থেকে ছয়টি কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন পুড়ে যায়।
আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, বিস্ফোরণের পর আহত অন্তত ২০ জনকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। গুরুতর দগ্ধ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’