ভারতের কাছে আবারো হার টাইগ্রেসদের

ভারতের কাছে আবারো হার টাইগ্রেসদের

ফন্ট সাইজ:

নাগোয়ায় আছড়ে পড়ার কথা ছিল শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের। কিন্তু ঝড় আসার আগেই যেন তার তাণ্ডব নেমে এলো কোরোগি স্পোর্টস পার্কে- ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মার ব্যাটে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ছক্কার পর ছক্কায় ৪৯ বলে করলেন অপরাজিত ১০০ রান। তার ব্যাটিং ঝড়েই ভারত তুললো ১৯৫ রান। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামলো মাত্র ৮১ রানে। ১১৪ রানের বিশাল হারে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের স্বর্ণপদকের স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল। হাংজু এশিয়ান গেমসেও ভারতের বিপক্ষে ৫১ রানে অলআউট হয়ে ৮ উইকেটে হেরেছিল জ্যোতির দল। পরে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেবার ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারো পদকের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

কোরোগি স্পোর্টস পার্ক জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নিশিন সিটিতে, নাগোয়া শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। মূলত বেসবল সুবিধাকে পুনর্গঠন করে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এটি। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কাজ করা কিউরেটর গামিনি সিলভা তৈরি করেছেন এখানকার উইকেট। তবে মিরপুরের উইকেটের একেবারে বিপরীত চরিত্র কোরোগিতে। ঢাকায় গামিনির তৈরি উইকেটে যেখানে ব্যাটারদের রান করতে রীতিমতো খাবি খেতে হতো, সেখানে কোরোগিতে রান হচ্ছে ভুরি ভুরি। গতকাল এশিয়ান গেমসে নারী বিভাগের দুটি সেমিফাইনালই তার প্রমাণ। পাকিস্তানের ছুড়ে দেয়া ১৭৭ রানের লক্ষ্য মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে সহজেই টপকে যায় শ্রীলঙ্কা । আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত তোলে ১৯৫ রান। গতকাল সন্ধ্যায় জাপানে আঘাত হানার পূর্বাভাস ছিল শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের। তার আগেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর টাইফুন হয়ে কোরোগি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে হাজির হলেন ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মা। মাত্র ১০ দিন আগে দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ম্যাচে ভারতকে ১৪৯ রানের পুঁজি এনে দিতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন শেফালি।

খেলেছিলেন ৪০ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। গতকাল সেই শেফালিই এনে দিলেন ভারতের অর্ধেকের বেশি রান। ৪৯ বলে ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। হাঁকান নয়টি ছক্কা। গেমসের ইতিহাসে এটা প্রথম সেঞ্চুরি। এছাড়া অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর ৩৩ বলে খেলেন ৪০ রানের ইনিংস। তার আগে অবশ্য শেফালিকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্দানা। সাজঘরে ফেরার আগে মান্ধানা মাত্র ১৯ বলে খেলেন ৩৭ রানের ইনিংস। মরা উইকেটে বাংলাদেশের বোলারদের কেউই সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি। মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার, রাবেয়া খান ও নাহিদা আক্তার একটি করে উইকেট নিলেও রান খরচে কৃপণ হতে পারেননি। বিশাল জয়ের লক্ষ্য ছুঁতে নেমে যেভাবে জবাব দেয়ার কথা ছিল, নিগার সুলতানা, সোবহানা মোস্তারি, দিলারা আক্তাররা সেটা পারেনি। ভারতীয়দের মাপা বোলিংয়ের কাছে আরেকবার অসহায় আত্মসমর্পণ করতে গেছে তাদের।

বাংলাদেশের সব ব্যাটার মিলেও শেফালির রান ছুঁতে পারেননি। সর্বোচ্চ ২৭ রান দিলারা আক্তারের। অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া নিগার সুলতানা জ্যোতি করেছেন ৯ রান। ম্যাচ শেষে ব্যর্থতার দায় নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘এই ধরনের মরা উইকেটে এত রান হয়ে গেলে ব্যাটাররা চাপে পড়ে যায়। দ্রুত রান করার তাড়না থেকেই আমরা অল্পতে গুটিয়ে গেছি। বোলাররা আরেকটু ভালো করতে পারলে লড়াই করা যেত।’ ভারতের বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ। জ্যোতি বলেন, ‘এই ধরনের ম্যাচে টস একটা ফ্যাক্টর। আমাদেরও পরিকল্পনা ছিল টসে জিতে ব্যাটিং নেয়ার। সেটা না হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। তারপরও টপ অর্ডারের ব্যাটারদের দায়িত্ব নেয়া দরকার ছিল।

কেউ একজন খেলাটা শেষ করে আসতে পারলে হারের ব্যবধানটা কম হতে পারতো।’ স্বর্ণপদকের আশা শেষ হলেও পদক জয়ের সুযোগ এখনো আছে বাংলাদেশের। মঙ্গলবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। জ্যোতি বলেন, ‘গত এশিয়ান গেমসেও পাকিস্তানকে হারিয়ে মেডেল জিতেছিলাম। নিকট অতীতেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলেছি। বিশ্বকাপেও জিতেছি। আশা করি, ভালো ক্রিকেট খেলে এবারও মেডেল জিতবো।’