গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ম্যানেজার টিম মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকায় রিংয়ে নামতে পারেননি বাংলাদেশের বক্সাররা। ইনচন এশিয়ান গেমসে ফেন্সিংয়েও ঘটেছিল একই ঘটনা। হাংজু এশিয়াডে নির্ধারিত সময়ে না পৌঁছানোর কারণে ম্যাটে নামতে পারেননি বাংলাদেশের কারাতেকারা। এবার আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের ‘জার্সি কাণ্ড’। জার্সির ভুলের কারণে কোর্টে নামাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শাটলারদের। এশিয়ান গেমসের জন্য নিজ নিজ ফেডারেশনকে জার্সি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। প্রায় সব ফেডারেশন জার্সি তৈরি করে বিওএর কাছে পাঠিয়েছিল। বিওএর সংশ্লিষ্ট কমিটিও সেসব জার্সির অনুমোদন দিয়েছে।
অন্যদের ক্ষেত্রে সমস্যা না হলেও বিপত্তি ঘটেছে ব্যাডমিন্টনের জার্সিতে। কারণ ফেডারেশন শুধু ডিজাইনের অনুমোদন নিয়েছিল, সম্পূর্ণ জার্সির নয়। আজ এশিয়ান গেমসে কোর্টে নামার কথা বাংলাদেশের শাটলারদের। কিন্তু শুক্রবার সকালে ম্যানেজার মিটিংয়ে জার্সির প্যাকেট খোলার পর দেখা যায়, খেলোয়াড়দের নামের বানানে ভুল রয়েছে। আয়মানের জায়গায় লেখা হয়েছে জুমান। ওহিদুল, জুমার ও উর্মির নামেও বানান ভুল হয়েছে। শুধু নামের বানান নয়, দেশের জায়গায় লেখা হয়েছে খেলোয়াড়দের নাম। লেখার ফন্টের আকার নিয়েও সমস্যা রয়েছে। অভিযোগ আছে, জার্সির মান নিয়েও। আয়োজকদের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত মান ও নকশার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ জার্সি পরে কোর্টে নামার অনুমতি মিলবে না। আজ সকাল ১১টার মধ্যে সংশোধিত জার্সি জমা দিতে না পারলে বাংলাদেশের শাটলারদের কোর্টে নামাই অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়রা বলছেন, দেশে থাকতেই তারা জার্সির ভুল দেখেছিলেন এবং পরিবর্তনের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাদের কথা আমলে নেয়া হয়নি।
এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজেদের উদ্যোগেই নতুন জার্সি তৈরির চেষ্টা করছেন তারা। এক শাটলার বলেন, ‘আমরা ইউনেক্সে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে, চেষ্টা করতে পারে। তবে এই স্বল্প সময়ে দিতে পারবে কি না জানি না। রাতের মধ্যে জার্সি দিতে না পারলে আমাদের খেলা হবে না।’ যদিও ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সহসভাপতি ও দলের ম্যানেজার মহিউদ্দিন বুলবুল বিষয়টিকে ‘সামান্য ভুল’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাল দেখেছি জার্সিতে ভুল আছে। সমাধানের চেষ্টা করছি। আসলে এটা তেমন কোনো ভুল না। নামের বানানে ভুল হয়েছে। এটা সামান্য ভুল। আমরা ম্যানেজ করে ফেলেছি।’ তবে জার্সিতে শুধু নামের বানান নয়, দেশের নামের জায়গায় খেলোয়াড়দের নাম, ফন্টের আকারসহ একাধিক ভুল রয়েছে। ফলে বিষয়টি ‘সামান্য ভুল’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া হাসিবুর রহমান শাকিল এ ঘটনার দায় বিওএর ওপর চাপিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংশোধিত জার্সি তৈরিতে যে খরচ হবে, সেটিও তিনি দিতে রাজি নন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এমনকি দলের ম্যানেজার মহিউদ্দিন বুলবুলকে এ বিষয়ে টাকার কথা বলতে বারণ করেছেন বলেও জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিওএ’র মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বারবার তাগাদা দিয়েছি জার্সির অনুমোদন নেয়ার জন্য। তারা শুধু ডিজাইন অনুমোদন করিয়েছে। কিন্তু জার্সিতে নামের বানান ভুল এবং দেশের নামের জায়গায় খেলোয়াড়দের নাম লেখা হয়েছে। এই দায় ফেডারেশনের কর্তারা এড়াবেন কীভাবে?’
