জ্যোতির বিকল্প কে!

জ্যোতির বিকল্প কে!

ফন্ট সাইজ:

এশিয়ান গেমস শেষে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সামনে ব্যস্ত সূচি। অক্টোবর মাসে আইসিসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে বাংলাদেশ দল। ব্রিসবেনের অ্যালান বর্ডার ফিল্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে খেলবে টাইগ্রেসরা। খেলাগুলো হবে ৯, ১১ এবং ১৪ই অক্টোবর। এরপর ডিসেম্বর মাসে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে দল। খেলাগুলো হবে নেলসনের স্যাক্সটন ওভাল, ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ এবং মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে। সফর চলবে ১০ই ডিসেম্বর থেকে ২৩শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। এশিয়ান গেমস শেষে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তিনি ইমেইলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) এই সিদ্ধান্ত জানান।

বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু দলের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘সুলতানার বিকল্প হিসেবে ক্রিকেটার বেশি নেই, তবে তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় আমাদের কাউকে খুঁজতে হবে।’ তিনি সংবাদ মাধ্যমকে আরও জানান, দলের স্পিনার নাহিদা আক্তার এবং অলরাউন্ডার সোবহানা মোস্তারি আলোচনায় আছেন। টি-টোয়েন্টি সংস্করণের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানান জ্যোতি। গতকাল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে হারের পর নিজের অবস্থান আরো একবার পরিষ্কার করেন জ্যোতি। নিজের ব্যাটিং ও উইকেটকিপিংয়ে নজর দেয়ার কারণ তুলে ধরে জ্যোতি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় একজন ব্যাটার এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেয়ার আছে। তাই আমি সেদিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এজন্যই এই ডিসিশন।’ ওয়ানডে দলের নেতৃত্বে তিনি থাকবেন।

তবে বিসিবি এখন নেতৃত্বের বিকল্প খুঁজছে। আলোচনায় নাহিদা এবং সোবহানা এগিয়ে আছেন। তালিকায় আছেন রাবেয়া খাতুন ও স্বর্ণা আক্তারও। কোচ সারোয়ার ইমরানের জায়গায় ডেভিড হেম্প দায়িত্ব পেতে পারেন। এখন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিসিবি। ওয়ানডে ফরম্যাটে জ্যোতিকে অধিনায়ক রাখা হবে কিনা তা নিয়ে আছে ধোঁয়াশা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির একটি সূত্র জানায়- ‘জ্যোতিকে নিয়ে দলের ভিতর যে দ্বন্দ্ব বা ক্ষোভ সেটি দিন দিন বাড়ছে। তাতে করে তার নেতৃত্ব নিয়ে বিকল্প ভাবতেই হবে।’ জ্যোতিকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু মাঠ ও মাঠের বাইরের ঘটনা ক্রিকেটপাড়ায় বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গত বছরের শেষের দিকে সাবেক ক্রিকেটার জাহানারা আলমের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে তোলা ‘স্বৈরাচারী’ কায়দায় দল পরিচালনার অভিযোগ এবং জুনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের গুঞ্জন জ্যোতিকে বেশ সমালোচনায় ফেলেছিল, যদিও জ্যোতি এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন ।

তবে বিতর্কটি নতুন করে তীব্র রূপ নেয় চলতি মাসে এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে । ওই ম্যাচের টসের পর জ্যোতি ভারতীয় দলের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের সঙ্গে করমর্দন বা হ্যান্ডশেক করতে অস্বীকৃতি জানান । বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু এই ঘটনা থেকে বোর্ডকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখে স্পষ্ট জানান যে এটি সম্পূর্ণ জ্যোতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল এবং এর পেছনে বোর্ডের কোনো নির্দেশনা ছিল না ।

এছাড়াও টুর্নামেন্টে জ্যোতির নিজের ব্যাটিং ফর্ম এবং দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তার অধিনায়কত্ব পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়ে । সমালোচনার এই রেশ ধরেই ১৫ই সেপ্টেম্বর জ্যোতি বোর্ডকে ইমেইলের মাধ্যমে জানান যে তিনি এশিয়ান গেমস শেষে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। যদিও গুঞ্জন উঠেছিল বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো সমর্থন না পাওয়ার কারণে ক্ষোভ থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।