এশিয়ান গেমসে দুই কোরিয়ার কাছে প্রথম দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। টানা দুই হারে কোয়ার্টার ফাইনালের পথ কঠিন করে ফেলেছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে আজ মিয়ানমারের মুখোমুখি হবেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা। ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে এ ম্যাচে মিয়ানমারকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। এবং তাকিয়ে থাকতে হবে ভিয়েতনাম-উজবেকিস্তান ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচে উজবেকিস্তানের বড় জয় কামনা করতে হবে। গ্রুপ
পর্বে প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর মিয়ানমারের বিপক্ষে ভালো ফুটবল উপহার দিতে চায় বাংলাদেশ।
গতকাল সাকাইয়ে অনুশীলন সেশনে টুর্নামেন্টে মেয়েদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে কাজ করেন কোচিং স্টাফরা। মিয়ানমার ম্যাচকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে গোল কিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে আমরা ভালো ট্রেনিং সেশন করছি। মেয়েদের মধ্যে তেমন কোনো ইনজুরির সমস্যা নেই; নবিরন ছাড়া। গত দুইটা ম্যাচ খুবই শক্তিশালী দুইটা টিমের বিপক্ষে খেলেছি। এখান থেকে আমাদের যতটুকু প্রাপ্তি, যতটুকু ইতিবাচক দিক আছে, সেটা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই এবং আমাদের ভুলভ্রান্তিগুলো ঠিক করতে চাই। গত দুই দিন আমরা বিশেষ করে ওই ভুলভ্রান্তিগুলো নিয়েই কাজ করেছি।’ ফিফার বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১তম ও দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে ১৯তম স্থানে। বড় দলগুলোর সঙ্গে সাফল্য পেতে নিয়মিত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন কোচ।
তিনি বলেন, ‘বড় টিমের বিপক্ষে খেলতে গেলে আপনার অনেক ভুল হবে, এটা একদম স্বাভাবিক। কারণ আমরা আসলে বড় টিমের বিপক্ষে খেলে অভ্যস্ত না বা এই লেভেলে আমরা খেলে অভ্যস্ত না।’ বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী দল মিয়ানমার। বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে তারা ৫৫তম। তবুও মিয়ানমারের বিপক্ষে শেষটা রাঙানোর প্রত্যয় বাংলাদেশের। ২০২৫ সালে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে মিয়ানমারের মাটিতে তাদের ২-১ গোলে হারান ঋতুপর্ণা-আফঈদারা। সেই সুখস্মৃতি সামনে রেখে দলকে উজ্জীবিত
করেছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘মেয়েদেরকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি, ভুলগুলো দেখাচ্ছি, সেটা মাঠে কীভাবে সঠিকভাবে করা যায়, সেটাও করানোর চেষ্টা করছি। বাকিটা উপরওয়ালার ইচ্ছা। যদি উপরওয়ালা সহায় হন, আমরা নেক্সট ম্যাচটার দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা একটা ভালো ফলাফল নিয়ে দেশে ফিরতে চাই।’
জাতীয় নারী ফুটবল দলের হেড কোচ পিটার বাটলার প্রথম দুই ম্যাচকে অভিজ্ঞতা অর্জন ও দল পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখেন। মিয়ানমারকে ঘিরে মূল পরিকল্পনা সাজান তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে হারের পর এ নিয়ে বাটলার বলেন, ‘অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হলো ধাক্কা সামলে নিয়ে নিজেদের গুছিয়ে নেয়া এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফুটবল উপহার দেয়া।’ এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলে ১২টি দল ৩টি গ্রুপে খেলছে। তিন গ্রুপের সেরা দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। বাকী দুই দল নির্ধারিত হবে তিন গ্রুপের সেরা দুই তৃতীয় দল থেকে। সেই হিসেবে এখনো কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকে রয়েছে বাংলাদেশের।
