৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

সহযোগীদের খবর

৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কুমিল্লায় নিখোঁজের পর লাশ পাওয়া গেছে ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। এর আগেও এ বছর নিখোঁজ শিশুদের কাউকে পাওয়া গেছে মাটিচাপা অবস্থায়, কাউকে নদীতে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, বছরের প্রথম আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার ছাড়াও চলতি বছর শিশুদের ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং স্বজনের সঙ্গে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

যেমন জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের একটি শিশু ১০ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। ১২ সেপ্টেম্বর তার সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, সহপাঠীর বাবা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য নিয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করে আসক। তাদের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) শিশু নিখোঁজের পর হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যান্য ঘটনায় মোট নিহত শিশুর সংখ্যা ১৫৫। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে নিহত ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে নিহত ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যা (দুই ছেলেশিশুসহ) ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা ৪, গুলিতে নিহত ৩, গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু ২, উত্ত্যক্তকারীর হাতে হত্যা ২ এবং অপহরণের পর হত্যা করা হয় ১ জনকে। এর বাইরে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনা আছে।

সম্প্রতি শিশুহত্যার একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে। যেমন পাবনা সদরে ১০ বছরের একটি শিশু ৯ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্বজনের সঙ্গেও প্রাণ যাচ্ছে

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চারটি ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যের সঙ্গে সাত শিশু নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ২৫ জুন লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে এক পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিন বোনের মধ্যে সিপার বয়স ১০ এবং ইকরার ১৭ বছর ও সাইমা আক্তারের বয়স ছিল ২১ বছর।

আগস্টে রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সঙ্গে খুন করা হয় ১২ বছরের ছেলে আয়ুশকে। একই মাসে মাদারীপুরের শিবচরে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর ২৪ আগস্ট নদী থেকে তাঁর এক বছরের সন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মা ও শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ১৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একই পরিবারের ১০, ৭ ও ২ বছরের তিন শিশুকে হত্যা করা হয়।

শিশুদের বাইরে আরও হত্যার ঘটনা আছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে দেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে। সেই হিসাবে মাসে গড়ে ২৯৫টি হত্যা মামলা হয়েছে।

এখনো নিখোঁজ দুই হাজার শিশু

শিশুহত্যার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও আছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের সংবাদ প্রকাশ করে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও ৮৭ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৭৯। সেই হিসাবে নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।

সুরক্ষাব্যবস্থা ও জবাবদিহিতে জোর

বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ২২ মে বিবৃতি দেয় ইউনিসেফ। সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান। ঘর, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বানও উঠে আসে সংস্থাটির বক্তব্যে।

এসব ঘটনায় অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে ইউনিসেফ। পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্রেও জবাবদিহি বাড়ানোর কথা তুলে ধরা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফাতেমা রেজিনা ইকবাল শিশুহত্যা ও শিশুর প্রতি নির্মমতার মতো অপরাধগুলো নিয়ে খোঁজখবর রাখেন। গতকাল শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নৃশংসতা একটি সমাজের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। এখন প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের নিরাপদ জায়গা আসলে কোথায়। খেলার মাঠ, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়া কিংবা পরিবারের সঙ্গে থাকা—কোনো জায়গাতেই যেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, শিশুর ওপর এ ধরনের সহিংসতার পেছনে অপরাধীদের বিকৃত মানসিকতার পাশাপাশি প্রতিশোধ বা পারিবারিক বিরোধও কাজ করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যে বিরোধ বা হিংসার শিকারও হচ্ছে শিশু। এসব ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখতে পারে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র: রাজনীতিতে অশনিসংকেত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতার ৭ মাস যেতে না যেতেই সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে কিনা তা নিয়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, একদিকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার হুমকি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বিরোধী দল হুমকি দিচ্ছে একদফা আন্দোলনে যাওয়ার। তবে সরকারকে শুধু এই দুই ইস্যু মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা নয়; অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, এমনকি অর্থনৈতিক সেক্টরেও নানামুখী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অশনিসংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, সরকার ও বিরোধী দল এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠবে। এর সুযোগ নিতে পারে জুলাই গণ-আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ।

ইতোমধ্যে ওই দলটির উসকানিতে রাজধানী ঢাকায় একের পর এক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। বলা হচ্ছে, এই অংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের। পুলিশের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসনও ফ্যাসিবাদমুক্ত কিনা সে আলোচনাও উঠছে।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরীর মতে, রাষ্ট্রের পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত শক্তি সবসময়ই দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া থাকে। তারা সরকারকে বিপদে ফেলতে চায়। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে যারা দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলেছিল তারাই আজ পুনরায় ফেরার চক্রান্ত করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও গভীর চক্রান্তের অংশ। তিনি বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই পরাজিত গোষ্ঠী নানা ধরনের খেলা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে। তারা চায় সরকারের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে, ক্রাইসিস তৈরি করতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলতে।

‘শেখ হাসিনা ফিরে আসার সম্ভাবনা কম হলেও তাদের পলাতক সহযোগীরা বিভিন্ন উপায়ে আস্তে আস্তে ফিরে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এজন্য পরাজিত শক্তির চক্রান্ত রুখতে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে হবে। দেশের বাইরের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থে তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে’-যোগ করেন তিনি।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, একদিকে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের হুমকি, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন-সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অশনি সংকেত ও চরম অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র তো থাকবেই। কারণ সাড়ে ১৫ বছরে সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে আওয়ামী লীগ তাদের আস্থাভাজন লোকদের বসিয়েছিল। তবে রাজনীতিতে বর্তমানে নৈতিক শক্তির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। রাজনীতি এখন অনেকাংশেই সুবিধাবাদী, স্বার্থান্বেষী এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত রূপ ধারণ করেছে, যা সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসে না। বর্তমান সরকারকে এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তবে আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে কিছুটা সক্ষম হলেও তাদের ফিরে আসার মতো নৈতিক শক্তি নেই।

অনেকের মতে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই হয়তো সব বিষয়কে সরলতার সঙ্গে দেখার চেষ্টা করছে। তবে সরকারের ভেতরে-বাইরে কারা প্রকৃত বন্ধু, কারা সুযোগসন্ধানী কিংবা ষড়যন্ত্রকারী-তা বুঝতে কিছুটা সময় লাগছে। নানা তৎপরতার কারণে সরকারের আসল সুহৃদ বা শুভাকাক্সক্ষী কারা সেটি চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারকে বিভিন্ন কুচক্রী মহলের সাজানো ‘টোপ’-এর মুখেও পড়তে হচ্ছে; এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও বিভ্রান্তিকর তথ্য উঠে আসছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এদেশে ইংরেজদের অলিখিত ‘ভাগ করো ও শাসন করো’ (ডিভাইড অ্যান্ড রুল) নীতি। প্রশাসন, পুলিশ ও পেশাজীবীদের বিভিন্ন অংশ পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘ব্লেম গেমে’ (দোষারোপের রাজনীতি) মেতে উঠেছেন। নিজের হিসাবের সঙ্গে না মিললেই প্রতিপক্ষকে জামায়াত বা আওয়ামী লীগের দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এটি প্রত্যেকেই করছে নিজের সুবিধা আদায়ের জন্য। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কে বিএনপি কিংবা বর্তমান সরকারের প্রকৃত সুহৃদ, তা চিহ্নিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের একটি সুবিধাবাদী অংশ নিজেদের পছন্দমতো লোকজনকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে বসানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেকে ক্ষেত্রেই সরকারের নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন না কে কার লোক! ওইসব লোকেরা সরকারের সার্বিক স্বার্থ দেখার বদলে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখছেন। এতে কোথাও কোথাও সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ছে কিনা সে প্রশ্ন উঠছে। বলা হচ্ছে, সরকার আসলে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পারছে কিনা?

কালের কণ্ঠ

‘কয়লাবিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা, উচ্চমূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বাড়তি চাপ এবং ধারাবাহিকভাবে কমছে দেশীয় গ্যাসের মজুদও। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও কয়লার দিকে ঝুঁকছে সরকার।

নতুন করে দুই হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এবং পটুয়াখালীর পায়রায় এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হতে পারে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। এর মধ্যে মাতারবাড়ীতে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা সাম্প্রতিক সময়ে আরো প্রকট হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ে স্পট মার্কেট (খোলাবাজার) থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারকে। এতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ভর্তুকির চাপও বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কালের কণ্ঠকে জানান, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে পরিবেশগত উদ্বেগ থাকলেও আরো দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী সম্প্রসারণ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.৫৬ বিলিয়ন ডলার। তাঁরা আরো বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সংকট এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বেড়েছে। এ অবস্থায় নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলএনজির তুলনায় কয়লার উৎস ও সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। গত কয়েক দশকে যুদ্ধের সময় ছাড়া কয়লার সরবরাহ বন্ধ হওয়া বা দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায়নি। কয়লার দামও মোটামুটি স্থিতিশীল এবং সরবরাহে ঘাটতির সম্ভাবনাও তুলনামূলক কম।’ তিনি বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে কয়লা আমদানির ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা থেকে অনেকটাই সুরক্ষা দিতে পারে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘দেশে আরো দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্রিড-সংযুক্ত নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের মাতারবাড়ী সম্প্রসারণ প্রকল্পের ডিপিপি এরই মধ্যে তৈরি করেছে বিসিপিসিএল। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.৫৬ বিলিয়ন ডলার। মাতারবাড়ীতে আগে থেকেই বিদ্যুৎ সঞ্চালনের অবকাঠামো থাকায় নতুন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট তিন বছরের মধ্যে এবং দ্বিতীয় ইউনিট প্রায় চার বছরের মধ্যে উৎপাদনে আসতে পারে। বিদেশি অর্থায়ন না পাওয়া গেলে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পায়রায়ও আরো এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় পর্যায়ের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।’

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের দূরত্ব বাড়ছে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে সংবিধান সংশোধনে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটি। ক্ষমতাসীন জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত এ কমিটির ডাকে সাড়া দেবে না গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবিতে অনড় বিরোধী দল।

আজ রোববার দুপুর আড়াইটায় সংসদে হবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোর সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটির এ বৈঠক। সনদে সই না করা চার বামপন্থি দলকে আমন্ত্রণ জানায়নি কমিটি। দলগুলো হলো গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের শরিক চারটি দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদ (মার্ক্সবাদী)।

জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, তারাও সংস্কারের দাবিতে অনড়। তাই কমিটির বৈঠকে যাবে না। রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন জানিয়েছে, তারা বৈঠকে গিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়; গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কারের দাবি জানাবে। জেএসডি জানিয়েছে, বিএনপি গণভোটে অস্বীকার করায় তারা কমিটির বৈঠকে অংশ নেবে না।

চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ইসলামী আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ জানিয়েছেন, তারা বৈঠকে যাবেন না। ইসলামী আন্দোলন গণভোটের রায়ে সংস্কার চায়।

সনদে স্বাক্ষরকারী বাকি দলগুলো ক্ষমতাসীন বিএনপির সমমনা। সংস্কার প্রশ্নে দলগুলোর অবস্থান ক্ষমতাসীন দলের কাছাকাছি। তারা আজকের বৈঠকে যোগ দেবে।

সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জামায়াত, এনসিপি ছাড়াও এ জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ও লেবার পার্টি সনদে সই করেছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্য কমিশন ৩৭টি দলকে সংস্কারের সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ৩৩টি দল এতে অংশ নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত অঙ্গীকারনামায় মতামত দেয় ৩০টি দল। বাহাত্তরের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সনদে সই করেনি সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনূসের উপস্থিতিতে এই সনদ সই করে ২৪টি দল। পরবর্তী সময় সই করে গণফোরাম। বাস্তবায়ন পদ্ধতি তখনও নির্ধারিত না হওয়ায় এনসিপি সই করেনি। তারা নির্বাচনের তিন দিন পর ১৫ ফেব্রুয়ারি সনদে সই করে জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নির্ধারণে গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই আদেশের ওপর গণভোট হয় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন। এই আদেশে বলা হয়েছিল, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে।

জুলাই সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নির্ধারণে গত ১৩ নভেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই আদেশের ওপর গণভোট হয় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন। এই আদেশে বলা হয়েছিল, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদ ১৮০ দিনের মধ্যে গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করবে।

ইত্তেফাক

‘জুলাই থেকে মিলবে বাড়তি বেতন’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে গতকাল শনিবার ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন বেতনকাঠামোয় ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে। তবে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রথম ধাপে, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি বেতন পাবেন। গত ৩০ জুন যে মূল বেতন আহরিত বা প্রাপ্য ছিল, তার সঙ্গে এই বাড়তি অর্থ যুক্ত করে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে বেতন পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন। এছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সব সুবিধা পাবেন।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর গতকাল এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তত্কালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালু করা হলো।

পেনশন বাড়বে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ, ছুটি নগদায়ন ১৮ মাস:

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান নিট পেনশনের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বাড়বে। একই সঙ্গে পেনশনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর পেনশনসংক্রান্ত বিধানে বলা হয়েছে, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে। তবে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীরা যে নিট পেনশন পেতেন, তার ভিত্তিতে নতুন করে নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে মূল পেনশনভোগীর নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম হলে বৃদ্ধির হার হবে ১০০ শতাংশ। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন নিট পেনশন হবে ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা।

যাদের নিট পেনশন ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত, তাদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। এ শ্রেণির সর্বনিম্ন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে সর্বনিম্ন নিট পেনশন হবে ৩৫ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। এ শ্রেণির সর্বনিম্ন নিট পেনশন ৪৯ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪০ হাজার ১ টাকা ও তদূর্ধ্ব নিট পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এ শ্রেণিতে সর্বনিম্ন নিট পেনশন হবে ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা।

যেসব অবসরভোগী ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন উত্তোলন করছেন, তারা ১ জুলাই ২০২৭ তারিখে পরবর্তী বার্ষিক বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশনই পাবেন। আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রথমে নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি বার্ষিক বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) দেওয়া হবে। অর্থাৎ নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই সংশ্লিষ্ট অবসরভোগীদের পেনশন পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে নীলনকশা পুলিশে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার দলীয় নেতাকর্মী ও তৎকালীন প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো নিয়ে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

আজ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঢাকা লকডাউনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এ দিকে ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রাকিবুল হাসানের অডিও ভাইরাল হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাঠপর্যায়ের পুলিশের তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। তার কথায় স্পষ্ট- ‘শেখ হাসিনা দেশে এলে এ পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।’ গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে, এ ঘটনার পর ওসি রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহারের পর ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার জেরার মুখে পড়েছেন ওসি রাকিবুল হাসান। গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, ওসি রাকিবুল হাসানের মোবাইল ফরেনসিক করার পর আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মোবাইলের তথ্যানুসারে দেখা গেছে, ডিসেম্বরকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন মহলে। পুলিশের মাঠ পর্যায়ের অনেক সদস্যেরও রাকিবুল হাসানের সাথে এসব বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কথপোকথনের সত্যতা পাওয়া গেছে।

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নীলনকশা তৈরি করেছেন। যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যতা পাওয়া গেছে গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের পর গত শুক্রবার রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায়। অবশ্য ওই মিছিলকে কেন্দ্র করে গুলশানের আলোচিত ডিসি তানভীর ও গুলশান থানার ওসিকে সরিয়ে দেয়া হলেও মাঠপর্যায়ের পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সেদিনের ঝটিকা মিছিল পুলিশকে ম্যানেজ করেই করা হয়েছে। এরপরই গত বৃহস্পতিবার আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো: রাকিবুল হাসান।

সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ওসির একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হলে ওই অডিওতে পুলিশের মাঠপর্যায়ের দুর্বলতার বর্তমান অবস্থা, শেখ হাসিনা কোন কৌশলে ফিরতে পারে তার কথপোকথনে উঠে আসে। ওসি রাকিবুল হাসানের এক অডিও ক্লিপেই পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা যে কতটা দুর্বল তা প্রকাশ পায়।

শুধু তা-ই নয়, পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) গাড়ি চালকের মাধ্যমে সারা দেশের ওসি বদলির বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে অনেক অযোগ্য পুলিশ অফিসারকে ভালো জায়গায় পোস্টিং দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে খোদ পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্যরাই নীলনকশা তৈরি করছেন।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া এবং প্রভাবশালী পলাতক কর্মকর্তাদের সাথে পুলিশে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব থাকা অনেক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলাসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো: রাকিবুল হাসানের অডিও ক্লিপে যা বলা হয়েছে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো: ওসি রাকিবুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে, কিছু হবে না, কিচ্ছু হবে না, আপনারা তো চিন্তাও করতে পারছেন না রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল।’ ‘ভয় নাই তো, আসা উচিত, ডিসেম্বর দেরি দেখছি, এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলে এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না। ওসি রাকিবুল সেনাপ্রধান ও ক্যান্টনমেন্ট নিয়েও বেশ কিছু আপত্তিজনক বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি পুলিশের সিনিয়র অফিসারদের নিয়েও কথা বলেছেন। বলেছেন, আমরা তো বিএনপি করতেছি না, সব সিনিয়র বিএনপি করতেছে। তিনি ওসি পোস্টিং নিয়েও আইজিপির বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আইজিপির ড্রাইভার পোস্টিং করতেছে। আইজিপির ড্রাইভার ওসি পোস্টিং করছে।

গোয়েন্দাদের তথ্যানুযায়ী, গোয়েন্দাদের পাশাপাশি সরকার থেকেও বেশকিছু তদন্ত শুরু হয়েছে পুলিশের মধ্যে। তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। ওই সূত্র জানায়, পুলিশের মধ্যে বর্তমানে চাকরিরত প্রায় আড়াই শ’ পুলিশের সম্পৃক্ততা তারা পেয়েছে। যারা পুলিশে এখনো সক্রিয়। তারা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ চক্রের সদস্য। তারা পলাতক ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের কাছে বাহিনীর স্পর্শকাতর গোপন তথ্য পাচার করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত। তাদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা তথ্য মতে, এসব কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ এবং সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

বণিক বার্তা

‘মূলধন ঘাটতি ও বিপুল লোকসান গুনলেও দ্বিগুণ হচ্ছে ৭১ হাজার কর্মীর বেতন’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকে এখন ৭১ হাজার ৫৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন-ভাতা বাবদ ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি গত দুই বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার নিট লোকসান গুনেছে। বেশ কয়েকটি আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম-দুর্নীতিতে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ঠেকেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকায়। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি কর্মী। গত বছর কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংকটির ১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও মূলধন ঘাটতিতে থাকলেও ব্যাংকটির কর্মীদের বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ছে। সরকার কর্তৃক নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় বেতন-ভাতা খাতে ব্যাংকটির ব্যয় দ্বিগুণ হবে।

বেসিক ব্যাংকের আছে দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে লুটপাটের শিকার হওয়া সরকারি এ ব্যাংক ধারাবাহিক লোকসান দিয়ে আসছে ২০১৩ সাল থেকে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত ১৩ বছরে বেসিক ব্যাংক নিট লোকসান দিয়েছে ৬ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে আয় না বাড়িয়ে কেবল বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে বেসিক ব্যাংকের লোকসানের পাল্লা আরো ভারী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেবল বেসিক কিংবা জনতা ব্যাংকই নয়, বরং সরকারের মালিকানাধীন নয়টি তফসিলি ব্যাংকের পরিস্থিতিই অনেকটা একই রকম। এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। আর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক পরিচিত বিশেষায়িত হিসেবে। সরকারের মালিকানাধীন নয়টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল সোনালীর আর্থিক পরিস্থিতি এ মুহূর্তে কিছুটা ভালো। সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ থেকে বড় অংকের অর্থ আয় করায় ব্যাংকটি মুনাফায় রয়েছে। বাকি আটটি ব্যাংকই এখন লোকসানি। বিপুল খেলাপি ঋণ, মূলধন ও সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতির চাপে রয়েছে এ ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকে এখন ৭১ হাজার ৫৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন-ভাতা বাবদ ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ায় চলতি বছরেই এ ব্যাংকগুলোর বেতন-ভাতা ব্যয় অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়বে। আর ২০২৮ সালে বেতন-ভাতা খাতে সরকারি ব্যাংকের ব্যয় দাঁড়াবে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিপুল এ ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের যে পরিচালন আয় হয়, সেটি দিয়ে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক আগেই এ ব্যাংকগুলো মূলধন খেয়ে ফেলেছে। এখন ব্যাংকগুলো মূলত আমানতকারীদের অর্থ ভাঙিয়ে চলছে। “‍সরকার মালিক, তাই দেউলিয়া হবে না”—এ কথা প্রচলিত থাকায় ব্যাংকগুলো টিকে আছে। মানুষ এখনো আমানত জমা রাখছে।’

লোকসানি ব্যাংকের কর্মীদের বর্ধিত বেতন-ভাতার সংস্থান কোথা থেকে হবে, সেটি দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাবা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এ সম্মাননীয় ফেলো বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, সেটি থেকে উত্তরণের উপায় সরকারকেই বের করতে হবে। বেতন-ভাতা বাড়িয়ে কর্মীদের খুশি রাখা একটি পদক্ষেপ—সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকগুলোর কী উন্নতি হবে, সেটিও নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। খেলাপি ঋণ আদায় কীভাবে হবে, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়দায়িত্ব কীভাবে পালন করবে, সেটিরও সীমারেখা টেনে দেয়া দরকার।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বেড়ে চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: সেপ্টেম্বরে মৃত্যু তিন গুণ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ডেঙ্গু রোগের ভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বাড়ছেই। জুনে রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়, তা চলতি মাসে আরও বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে সোয়া এক হাজার রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই সংখ্যা আগস্টের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুও বেড়েছে তিন গুণের বেশি। চলতি মাসের এ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে চারজনের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে ৬০ হাজার ৩৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩ হাজার ১৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এরপর বৃষ্টির মৌসুম শুরু হলে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬, আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে ২৪ হাজার ৫৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনে ৮১ জন চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছে। গত তিন বছরের আগস্টের মধ্যে গত আগস্টেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার গতিও দ্রুত হচ্ছে। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে ৬৬২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর সেপ্টেম্বরের গতকাল পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৯১ জন। অর্থাৎ দৈনিক রোগী ভর্তি বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আগস্টে প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু হয়েছে ১ দশমিক ৪ জনের। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ২৬ জন। অর্থাৎ দৈনিক গড় মৃত্যু বেড়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৭ গুণ।

গত বছরের চেয়ে রোগী ৪৮% বেশি

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেশি। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬০ হাজার ৩৭৯ জন। গত বছরের একই সময়ে ভর্তি ছিল ৪০ হাজার ৭০৯ জন। অর্থাৎ এক বছর পর একই সময়ে রোগী বেড়েছে ১৯ হাজার ৬৭০ জন বা ৪৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে মৃত্যু বেড়েছে তুলনামূলকভাবে কম হারে—২০২৫ সালের একই সময়ে ১৬৭ জনের মৃত্যুর বিপরীতে এবার ১৭৮ জন; বৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তবে রোগতত্ত্ববিদেরা বলেন, মৃত্যুর সংখ্যা শুধু সংক্রমণের মাত্রার ওপর নির্ভর করে না। রোগী কত দেরিতে হাসপাতালে আসছে, আসার সময় রোগের তীব্রতা কতটা, সতর্কতার চিহ্ন ছিল কি না এবং চিকিৎসা কত দ্রুত শুরু হয়েছে—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

আগে থেকেই সতর্কতা ছিল

জনস্বাস্থ্যবিদ ও বিশেষজ্ঞরা আগে থেকেই সতর্ক করছিলেন যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ খারাপ হতে পারে। চলতি মাসের শুরু থেকে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বাড়তে শুরু করে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার সম্প্রতি মিডিয়াকে বলেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ চলতি বছরের সর্বোচ্চ সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) গত চার বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে দেশের কয়েকটি এলাকায় ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের ৬৪ জেলাতেই ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার বাইরে বান্দরবান, বরিশাল বিভাগের সব জেলা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, মাদারীপুর ও খুলনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ কমাতে এখনই মশা নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারি কর্তৃপক্ষের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতার পাশাপাশি ডেঙ্গুর অনিয়ন্ত্রিত প্রকোপের জন্য নাগরিক সমাজের অসচেতনাকেও দায়ী করছেন তাঁরা। পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর উদ্বোধন করেছেন।

দেশ রূপান্তর

‘অডিওকান্ডে পুলিশে অস্বস্তি!’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, একটি অডিওতে মাত্র কয়েক মিনিটের কথোপকথন। এ নিয়েই চলছে তোলপাড়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মন্তব্য এবং নিয়োগ-বদলি সংক্রান্ত ‘রহস্যজনক তথ্য’ ফাঁসে অস্বস্তিতে পড়েছে পুলিশ। অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বিব্রত। তিন দিন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলামের এই অডিও কথোপকথন ফাঁস হয়। এতে আপত্তিকর তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে পুলিশে নিয়োগ-বদলিতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্যের পাশাপাশি ভাটারা থানায় কোটি টাকা লেনদেনের কথা বলা হয়। এ ঘটনায় ওসি রাকিবুলকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর আগেও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল হয়েছে।

কখনো ঘুষের অভিযোগ, কখনো বদলি-পদায়ন নিয়ে আর্থিক লেনদেনের দাবি, আবার কখনো বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ বক্তব্যের অডিও নিয়ে পুলিশে তৈরি হয়েছে নতুন অস্বস্তি। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব রেকর্ডের কোনটি সত্য, কোনটি সম্পাদিত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা, তা নিয়েও চলছে আলোচনা। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, ফাঁস হওয়া অডিওর বেশিরভাগই পুলিশ কর্তাদের। কিছুদিন আগের ফাঁস হওয়া অডিওটিও একজন ওসির। সরকার ও পুলিশকে বিব্রত করার পাশাপাশি কারোর ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে কি না সেই বিষয়ে জোরালোভাবে তদন্ত হচ্ছে। রাকিবুলের বক্তব্য অনুযায়ী কোটি টাকা কে নিয়েছে তাও উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এর আগে পুলিশের কোন কোন কর্মকর্তা ও সদস্যের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে সেগুলো নিয়েও নতুন করে তদন্ত হচ্ছে।

পুলিশ-সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার অডিও ফাঁস নতুন নয়। ২০২৫ সালে কক্সবাজারের রামু থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন বাদীর অনুকূলে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে। রাজশাহীর চারঘাট থানার তৎকালীন ওসিকে নিয়েও ২০২৩ সালে ঘুষ দাবির অভিযোগসংক্রান্ত অডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে তদন্তে অডিওটি নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের মে মাসে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ আবুল হাশেমকে ঘিরে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওর কণ্ঠ তার বলে দাবি করা হলেও তিনি সেটি অস্বীকার করেন। তাকেও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। চলতি বছর সিআইডির এক পুলিশ কর্মকর্তার বদলিসংক্রান্ত একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৯ সেপ্টেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় করা লিখিত অভিযোগের তদন্তে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মোবাইল ফোন কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে টাকার অঙ্ক উল্লেখসহ বিকাশ নম্বর দেওয়ার কথা শোনা যায়।

ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অডিও ফাঁস হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার, সংযুক্ত বা তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কর্মকর্তা অডিওর কণ্ঠ নিজের নয় বলে দাবি করছেন। পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো অডিওর সত্যতা যাচাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও তদন্তগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাবেক ওসি রাকিবুলের বিতর্কিত অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ কর্মকর্তারা বিব্রত। ওই অডিওতে বলা হয়, ‘শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কিছু হবে না। রাস্তার পুলিশ অনেক দুর্বল, তাই ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই তার দেশে আসা উচিত। এ সময় পুলিশ কিছুই করতে পারবে না।’ তা ছাড়া পুলিশের দুর্নীতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করছে। আমরা তো বিএনপি করছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, ... নিয়ে থাকবা, আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’ মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে।

অডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে। তার লজ্জা থাকা উচিত। তার চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ১০০ কোটি টাকা এমনিতেই হবে।’ ওসি পদায়ন নিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের কমিশনার যারা ছিল, তারা ওসি পোস্টিংয়ে টাকা নেয় নাই। যত ওসি বেনজীরের আমলে ছিল, টাকায় কোনো সময় বদলি হয় নাই।’

পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের অডিও ফাঁস নিয়ে ঊর্ধ্বতনরা বিব্রত। ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি ছাড়াও আরও একাধিক কর্মকর্তার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ইন্সপেক্টর রাকিবুলের অডিও ফাঁসের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তারা রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তিনি কাকে কোটি টাকা দিয়েছেন তাকে আমরা খুঁজছি। কোন উদ্দেশ্য তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বেশি।

সদর দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, এই ধরনের অডিও ফাঁসে পুলিশে অস্বস্তি আছে। এই নিয়ে ঊর্ধ্বতনরা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। মোবাইলে কথাবার্তায় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা বা ইউনিটকে ঘিরে অডিও ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সামগ্রিক ভাবমূর্তি, মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মনোবল এবং সাধারণ মানুষের আস্থার ওপরও পড়ে। এসব ঘটনায় পুলিশের কেউ কেউ শাস্তির আওতায় আসার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘অর্থ পাচার বন্ধ হবে কবে’। খবরে বলা হয়, দেশ থেকে নানা উপায়ে অর্থ পাচার কোনোভাবেই থামছে না। দেশের অর্থ বিদেশে গিয়ে বাড়ি, গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পদে রূপ নিচ্ছে। এসব অর্থ অবৈধ পথে বাইরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে সঞ্চয় ও উদ্যোক্তার অর্থ থাকলেও নতুন কারখানা, ব্যবসা, আবাসন, বিপণিবিতান কিংবা অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের গতি কমছে। এজন্য অর্থ পাচার ঠেকাতে একদিকে যেমন অবৈধ অর্থের উৎস ও গন্তব্য শনাক্ত করা জরুরি, অন্যদিকে দেশে বৈধ বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ, লাভজনক ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপকহারে অর্থ পাচারের যে ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তা অব্যাহত ছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে অর্থ পাচারের প্রবণতা কমলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে দুদক, বিএফআইইউ, এনবিআর ও সিআইডি। এসব সংস্থার দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মধ্যে বিদ্যমান অসহযোগিতামূলক সম্পর্কের স্থলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে অর্থ পাচার রোধে সরকারের এসব সংস্থার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) জাতীয় অর্থ পাচার ঝুঁকি মূল্যায়ন কর্মশালা করেছে। তার আগে ১৩ মে বিএফআইইউ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথ কর্মশালা করেছে। ৮-৯ মে ক্যামলকো সম্মেলন করেছে বিএফআইইউ। ফলে অর্থ পাচার কমানোর পাশাপাশি সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের সক্ষমতা এবং আর্থিক খাতের নজরদারি জোরদারে কাজ করছে।

গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩-২০২২ সময়ে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যভিত্তিক অবৈধ অর্থ প্রবাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৮৩০ কোটি ডলার, অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর ৬৮৩ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি আনুমানিক ৮৩,৮০০ কোটি টাকা বছরে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র কমিটি ২০০৯-২০২৩ সময়ের অর্থ পাচার বিশ্লেষণ করে মোট প্রায় ২৩,৪০০ কোটি ডলার পাচারের কথা জানিয়েছে। তাদের হিসাবে বার্ষিক গড় পাচার প্রায় ১৬০০ কোটি ডলার ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২ কোটি ৫৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বছর শেষে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের বিদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এসব অর্থ ১৮টি দেশে ছড়িয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের রিপোর্ট বেড়ে ৩০,১৯৯টিতে দাঁড়িয়েছে-এক বছরে বৃদ্ধি ৭৪ শতাংশ। বিএফআইইউ বলছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিয়ন্ত্রক নজরদারি, ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স এবং লেনদেন পর্যবেক্ষণ বেড়েছে। এদিকে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর নামে মোট ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ ছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি আনুমানিক ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এক বছরে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪১ শতাংশ।