স্পিকারের সঙ্গে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

স্পিকারের সঙ্গে জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জার্মানির সংসদীয় প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদল বুন্দেস্ট্যাগ সদস্য মি. নিকলাস কাপের নেতৃত্বে মি. গেরোল্ড ওটেন, মি. জোহান সাথফ, মিজ উলে শাউস এবং ড. রুডিগার লোটজ ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। দেশ স্বাধীনের সূচনালগ্ন থেকে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে সর্বোতভাবে সহায়তা করে আসছে।

তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তর গন্তব্য হলো জার্মানি। স্পিকার বলেন, ১৯৩৭ সাল থেকে আমাদের দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও গণতান্ত্রিকভাবে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয় অর্জিত হলেও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, পরপর ৩টি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ক্ষুন্ন করার মাধ্যমে এদেশের গণতন্ত্রকে বিপর্যস্ত করেছিল।

স্পিকার বলেন, স্বৈরাচারী আমলের গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী। এদেশের নারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান অনুসরণীয়। স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র প্রিয় এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারংবার উৎসর্গ করেছে। তাদের দৃঢ় মনোবল ও সংগ্রামের কারণে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। স্পিকার এসময় জাতীয় সংসদে নারী এমপিদের প্রতিনিধিত্ব মর্মে অবহিত করেন যে, বর্তমান সংসদে জনগণের ভোটে ৬ জন নির্বাচিত নারী সংসদ-সদস্য ও ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ-সদস্য রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত ও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

প্রতিনিধিদল সাক্ষাতকালে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার এবং বাংলাদেশে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেন। স্পিকার এসময় বাংলাদশের জনগণের বাক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।