চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে জাহেদুল আলম ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ (৩৩) হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম। গ্রেপ্তার আসামিরা হলন- জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আবদুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ। পুলিশ জানায়, গত ৩০শে আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতকানিয়া থানার পুরানগড় ইউনিয়নের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ (২৫)ও আহত হন। পুলিশ সুপার বলেন, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটা ও চুরির অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে জাহিদের সঙ্গে আসামিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। জয়নাল আবেদীন মানিক নামের এক যুবক ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করলে জাহিদ ক্ষুব্ধ হন। পরে নতুনহাট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দেন তিনি। এর জের ধরে ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় আসামিরা জাহিদকে মারধর করে এবং ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
পরে রাত ১০টার দিকে জাহিদ তার সঙ্গী ওয়াহিদকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে জাহিদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান। ওয়াহিদও আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২রা সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে দেশের বিভিন্নস্থানে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে পাহাড়তলী এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার একাধিক আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার তথ্য পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল সেখানে অভিযান চালায়।
১৪ই সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় এজাহারনামীয় মোট ১২ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল, সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
