ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যুর অভিযোগ ভিডিও ফাঁসের পর লাশ উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ছেলের মারধরের পর আব্দুল লতিফ লুতু খান (৬০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। বুধবার সকালে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এলে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ লুতু খানের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে লুতু খানের মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। কেউ কেউ তার মৃত্যু স্ট্রোকজনিত বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে, ছেলের মারধরের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, লুতু খান মাটিতে পড়ে আছেন। এ সময় তার ছেলে আরিফ লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করছেন।

একপর্যায়ে আরিফকে তার বাবা ‘অভিনয় করছেন’ বা ‘ভেংচি ধরেছেন’ বলতে শোনা যায়। সেখানে থাকা আরেক ছেলেকেও আরিফের কথার জবাব দিতে দেখা যায়। ভিডিওটির পরবর্তী অংশে লুতু খানকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ লুতু খানের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রতিবেশী মাহমুদা আক্তার বলেন, ঘটনার পর আরিফ সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাবাকে মারধর করেন।

পরে রাতেই লুতু খানের মৃত্যু হয়। নিহতের চাচাতো ভাই ফরহাদ আহমেদ বলেন, আরিফের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম জানান, লুতু খানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সন্ধ্যায় পারিবারিক কলহের পর গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।