চিলমারী-রৌমারী রুট থেকে সরিয়ে নেয়া হলো ফেরি

আটকে গেল উত্তরের উন্নয়নের চাকা

চিলমারী-রৌমারী রুট থেকে সরিয়ে নেয়া হলো ফেরি

ফন্ট সাইজ:

উত্তরের উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হলেও তা সরিয়ে নেয়ায় আটকে গেল উন্নয়নের চাকা। বন্ধ হলো যানবাহন পারাপার। সুফল থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা। শুরুতেই ফেরি সুফিয়া কামাল বিভিন্ন অজুহাতে সরিয়ে নেয়ার পর মেরামতের জন্য নেয়া ফেরি কুঞ্জলতা যুক্ত না করেই হঠাৎই আবারো মেরামতের অজুহাতে সর্বশেষ ফেরি কদম সরিয়ে নেয়ায় বন্ধ হলে গেল চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুট। এদিকে ফেরি সরিয়ে নেয়ার পর ড্রেজিং করে নৌ-পথ সচল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। দুই দপ্তরের নাটক, উদাসীনতা আর কতিপয় মানুষের নিজস্ব লাভের কারণে উত্তরের মানুষ আজ ফেরি সার্ভিস এবং এর সুফল থেকে বঞ্চিত অভিযোগ স্থানীয়দের। দ্রুত নৌ-পথ সচল করে ফেরি ফিরিয়ে এনে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুট চালুর রাখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নিতে ২০২৩ সালে চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে নতুনভাবে যুক্ত করা হয় ফেরি।

ফেরি চালুর পর এই রুটের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায় সেই সাথে স্থানীয়রা ও ব্যবসায়ীরা সুফল ভোগ করতে শুরু করে। প্রতিদিনই বাড়তে থাকে পণ্যবাহী গাড়ির চাপ, চাহিদার কারণে যুক্ত করা হয় আরও একটি ফেরি, ফেরি সুফিয়া কামাল। সুফিয়া কামাল যুক্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এবং উন্নয়নের আলো জ্বলতে শুরু করে। কয়েকদিন পর নাব্যর অজুহাতে কৌশলে সুফিয়া কামাল সরিয়ে নেয়া হলেও যুক্ত করা হয় ফেরি কদম। ফেরি কুঞ্জলতা এবং কদম চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে চাহিদা পূরণ করলেও অতিরিক্ত পণ্যবাহী গাড়ির চাপও বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং পারাপারের জন্য গাড়ি নিয়ে চালকদের রাতও পার করতে হতো চিলমারী বন্দর ঘাটে, তবুও স্বল্প খরচে সুফলের জন্য এই রুটের চাহিদা বাড়তে থাকে। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে উন্নয়নের আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে শুরু করে উত্তরাঞ্চলসহ কুড়িগ্রাম জেলা। কিন্তু নাব্য সংকট থামিয়ে দেয় এই ধারাকে।

ড্রেজিংয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম সেইসঙ্গে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি-এর সমন্বয়হীনতার কারণে বছরের প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস বসেই অলস সময় পার করতে হতো ফেরি দু’টিকে। ফলে প্রতিদিন পারাপার হতে আসা পণ্যবাহী গাড়ি অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হতো অন্য রুটে অভিযোগ স্থানীয়দের। এই নৌ-রুট চালু আর বন্ধের খেলায় থমকে যায় উন্নয়নের চাকা এবং হয়রানির শিকার হতে থাকে পণ্যবাহী চালক, ব্যবসায়ী, যাত্রীসহ স্থানীয়রা। নৌ-রুটে ফেরি চাহিদা পূরণ না করেই চলতি বছরের জুলাইয়ে মেরামতের কথা বলে সরিয়ে নেয়া হয় ফেরি কুঞ্জলতা এবং নাব্য’র সংকট দেখিয়ে বন্ধ রাখা ফেরি কদম। মেরামতের জন্য নিয়ে যাওয়া ফেরি কুঞ্জলতা এই রুটে যুক্ত না করেই চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই একই অজুহাতে (মেরামতের) কথা বলে সরিয়ে নেয়া হয় ফেরি কদম।

একে একে যুক্ত থাকা তিনটি ফেরি সরিয়ে নেয়ায় বন্ধ হলে গেল চিলমারী-রৌমারী নৌ-রুটে ফেরি চলাচল সেইসঙ্গে উন্নয়নের চাকাও থমকে দাঁড়িয়ে রইলো। স্থানীয় বসিন্দা আ. রহিম বলেন, ফেরি চালুতে ব্যবসায়ীদের ব্যবসার প্রসার ঘটেছে এবং ব্যবসায়ীসহ যাত্রীগণও সুবিধা পেতো সেটি বন্ধ হওয়ায় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলো জেলাবাসী। বিআইডব্লিউটিসি’র চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ বলেন, খনন বিভাগের প্রতিবেদন মোতাবেক মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। সেইসঙ্গে ফেরি আসার জন্যও চিঠি দেয়া হয়েছে।