জনবল ও ওষুধ সংকটে গাইবান্ধার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, দুর্ভোগে রোগীরা

জনবল ও ওষুধ সংকটে গাইবান্ধার বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, দুর্ভোগে রোগীরা

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসক শূন্যতা, অর্ধেকের বেশি পদ খালি, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ ও কর্মচারীদের বেতন জটিলতাসহ বহুমুখী সংকটে গাইবান্ধার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ না পেয়ে প্রতিদিন খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা। ?জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ১৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৯টি। গত ২০২২ সাল
থেকে মেডিকেল অফিসার এবং চলতি বছরের ১৯শে জুলাই থেকে জুনিয়র কনসালট্যান্টের পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। ফলে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা ২০ থেকে ৩০ জন রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ ছাড়া গত ১৬ বছর ধরে অফিস সহকারী, সহকারী নার্স, গৃহপরিদর্শিকা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদগুলো ফাঁকা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিল্মের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ এক্স-রে সুবিধা।

প্যাথলজিতেও কফ পরীক্ষা ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক পরীক্ষার সুযোগ নেই। ?প্রশাসনিক জটিলতায় কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ থাকার পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন ওষুধ সংস্থান না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ। সকালে সরজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের ভোগান্তির চিত্র। কর্মচারীরা দাপ্তরিক কাজ করছেন। অনেকেই গল্প করে সময় পার করছেন। বাহিরে থেকে রোগীরা আসছেন, কিন্তু চিকিৎসক নেই। সেবা না পেয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। কর্মচারীরা জানান, একজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, একজন মেডিকেল অফিসার ও দু’জন সহকারী নার্স থাকার কথা কিন্তু একজনও নেই। রোগীদের ওষুধ লেখবে কে? গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওষুধ নেয়া হয়নি। ফলে টোটাল ওষুধ সরবরাহ বন্ধ। দীর্ঘদিন থেকে ফিল্মের অভাবে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে মেশিন।

চিকিৎসা নিতে আসা গাইবান্ধা সদর উপজেলার পূর্বপাড়ার আমিনা বেগম (৮০) বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য কফ দিয়েছি। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে কাকে দেখাবো? এখানে তো কোনো বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই।’ এ ছাড়া ফুলছড়ি এলাকা থেকে আসা আমজাদ মিয়া (৫৬) জানান, টানা দুইদিন এসেও তিনি কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি। জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি আফরোজা বেগম বলেন, ‘বাড়তি জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসার, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।’ সার্বিক বিষয়ে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে একজনকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রশাসনিক কাজ থমকে আছে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।