জাফলংয়ে যন্ত্রদানব দিয়ে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ

পরিবেশ অধিদপ্তর যেন ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’

জাফলংয়ে যন্ত্রদানব দিয়ে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

সিলেটের গোয়াইনঘাটের প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে পেলোডার ও এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পাহাড়-টিলা কেটে এবং গাছপালা উজাড় করে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে বিপন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ। সরকার ঘোষিত প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)-এর ভেতরেও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে দিন-রাত সমানতালে পাথর উত্তোলন ও লুটপাট চলে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। দিনে- দুপুরে এসব পাথর উত্তোলন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এলেও স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তোলন করা পাথর মুহূর্তের মধ্যে ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়।

পরে দূরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা স্টোন ক্রাশার মিলসমূহে এসব পাথর ভেঙে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সময় পাথর উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ কিংবা বিরতি দেয়া হলে পাহাড়-টিলা কাটার আলামত আড়াল করতে পাহাড় টিলা কেটে তোলা উত্তোলন করা স্থান ও গভীর গর্ত বনজঙ্গল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পরিবেশ বিনষ্টকারী এসব চক্রের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বরং পাথর উত্তোলনকারীদের সঙ্গে সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। সরজমিন জানা গেছে, জাফলংয়ের মামার দোকান, পাথরটিলা, বল্লাপুঞ্জি, বাবুলের জুম, বিভিন্ন ক্রাশিংজোন, রসূলপুর, গুচ্ছগ্রাম, কান্দুবস্তি, নয়াবস্তি, লাখেরপার, পশ্চিম লাখেরপার, মেলার মাঠ, লাখেরপার ডেকরাটিলা, মুসলিমনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়-টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন ও পাহাড়-টিলা কাটার কারণে জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

একই সঙ্গে সরকারের জাফলংকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও মহাপরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বল্লাঘাটের বাবুলের জুম এলাকায় সরজমিন দেখা যায়, নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি পেলোডার ব্যবহার করে পাহাড়-টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করছেন। এ সময় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবই তো ম্যানেজ কইরাই চালাই! পুলিশ, পরিবেশ-সবার সঙ্গেই যোগাযোগ আছে, তাই দিন-দুপুরেই চালাই। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেটের পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কথা হলে গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকারিয়া হোসেন বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের কোনো কর্মকাণ্ড চলতে দেয়া হবে না।

এসব দৃশ্যমান অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, যেহেতু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে ‘সরকার এই এলাকাকে ইসিএ এলাকা ঘোষণা করে সব ধরনের পাথর-বালি উত্তোলন বন্ধ রেখেছে, সেহেতু এখানে এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অবৈধ। এ চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।