জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের পৃথক দুই ঘটনায় ইতিহাস ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০ শিক্ষার্থীকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দু’টি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ১৩ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এ শাস্তি দেয়া হয়েছে। অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩রা জুলাই রাত ১১টা থেকে দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে একই বিভাগের প্রথম বর্ষের ১৩ শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অকথ্য ভাষায় গালাগালি, কান ধরানো ও ম্যানার শেখানোর নামে তাদের র্যাগিং করা হয় বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিহাস বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মো. আবু আবতাহী অনিককে ৩০ হাজার টাকা এবং নাছিম উদ্দিন মজুমদার, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, আব্দুল্লাহ মাহদী, শুভাশীষ রায় প্রান্ত, মো. রায়হান খান, মো. নাঈমুল হাসান, মো. ইসফাক হাদী, নাঈম আহমেদ সজীব, কার্তিক চন্দ্র রায়, কাজী শাহ জামশেদ আলম নাবিল ও সাইফুল্লাহ মানসুর আনানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট জরিমানা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, গত ২০ই জুলাই দিবাগত রাত ১০টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে র্যাগিং করেন।
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে ‘মনপুরা’ নামক স্থানে ভুক্তভোগীদের অমানবিক নির্যাতন, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও কান ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আট শিক্ষার্থীকে ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। মো. জাহিদ হাসান, মো. ফজলে হাসান ফাহাদ ও সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুলকে ৫০ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান মিজু ও মো. ফয়সাল আহমেদকে ৪৫ হাজার টাকা করে; মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিবকে ৪০ হাজার এবং মো. আল-আমিন হোসাইনকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মোট জরিমানা ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮-এর ধারা ৩(২)(ঘ) অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের চলমান পরীক্ষা, টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অথবা পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি স্থগিত থাকবে।
