পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে দলের দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় নির্বাচন কমিশনে তলব করা হয়েছিল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস অংশ এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রেহিী অংশকে। শনিবার দুপুরে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সামনে দুপক্ষই বক্তব্য জমা দিয়েছেন। উভয় তরফেরই পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে ডাকা হয়েছিল।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের জয়ী বিধায়কদের বড় অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আসল তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছে। কারণ, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন তাদের দিকে রয়েছে। অন্য দিকে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস দলের নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতীক ছাড়তে নারাজ। তাদের বক্তব্য, দল তৈরি করেছেন মমতা। তার নামকে সামনে রেখেই প্রার্থীরা নির্বাচনে লড়েছেন এবং জয়ী হয়েছেন। তাই তাকে অস্বীকার করা বেআইনি। ফলে জোড়া ফুল প্রতীক কারা পাবে তাই নিয়ে চলছে লড়াই। দলের মূল প্রতীক নিজেদের দাবি করে নির্বাচন কমিশনে পাল্টাপাল্টি আবেদন জানিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের অংশ। এই বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশন তালবাহানা করছিল বলে মমতা বন্দোপাধ্যায় একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। তবে পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের দুটি কেন্দ্রে উপনির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পর তড়িঘড়ি নির্বাচন কমিশনে ডেকে পাঠানো হয়েছিল দুই যুযুধান পক্ষকে। শনিবার বৈঠক শেষে কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত বলেন, ‘‘ভেতরে যা বলেছি তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘না খাতা না বহি, জো মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি’— এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। তৃণমূল কোনও পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পার্টি।”সেই সঙ্গে ঋতব্রত জানিয়েছেন, ‘‘আমরা তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য কমিশনকে জানিয়েছি। কমিশন বিবেচনা করবে, আমরা আশাবাদী।” মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেও জোড়া ফুল প্রতীক দাবি করে বক্তব্য জানানো হয়েছে। জমা দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নথি। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এখন দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল।
তবে উপনির্বাচনের মনোনায়িন পত্র জমা দেয়ার তারিখের আগে মীমাংসা জানা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলের । প্রতীক যে পক্ষকেই নির্বাচন কমিশন দিক না কেন ক্ষুব্ধ পক্ষ আদালতে যাবে। ফলে মীমাংসা নিয়ে জটিলতা চলতেই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, আপাতত নির্বাচন কমিশন জোড়া ফুল প্রতীককে ফ্রিজ করে রেখে দিতে পারে। ফলে তখন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই অংশকেই নির্দল হিসেবে সংরক্ষিত প্রতীক থেকে বাছাই করে উপনির্বাচনে প্রার্থী দিতে হবে।
জোড়া ফুল প্রতীকের শুনানিতে নির্বাচন কমিশনে বক্তব্য জানালো তৃণমূল কংগ্রেসের দুই পক্ষ
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
১ ঘন্টা আগে
১৩ সেপ্টেম্বর (রবিবার), ২০২৬, ১১ঃ৩৬ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
