রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বৃটেনের অন্তর্ভুক্ত নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ বা একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। আয়ারল্যান্ড সফরকালে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ কোনো না কোনো সময় ঘটবেই, তাই ‘এটা এখনই ঘটে যাওয়া ভালো’। হুট করে দেয়া ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে আইরিশ ও বৃটিশ রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বৃটিশপন্থি নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এ খবর জানিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।
আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী (তাওইসিখ) মিহোল মার্টিনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোনো সমস্যা তৈরি করতে চান না, তবে একটি একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে পছন্দ করবেন। পরে তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে তার বক্তব্য বিতর্কের জন্ম দেবে। এর মাধ্যমে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে হোয়াইট হাউসের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থানের প্রচলিত ধারার ব্যত্যয় ঘটালেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে বৃটেন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের বৃটিশপন্থিরা। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী একত্রীকরণ নিয়ে গণভোট ডাকার মতো প্রয়োজনীয় জনসমর্থন এখনো তৈরি হয়নি বলেই মনে করে লন্ডন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন সরাসরি জানান, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ লন্ডন, ডাবলিন কিংবা ওয়াশিংটনের মন্তব্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে না। এটি কেবল ওখানকার জনগণই ঠিক করবে। বৃটিশ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অবিবেচকের মতো আচরণ আখ্যা দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন কথা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে। গলফ খেলার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এই অনানুষ্ঠানিক সফরের শুরুতেই আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সরকারি বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। এদিকে ট্রাম্পের সফরকে ঘিরে ডাবলিনের রাস্তায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মধ্য ডাবলিনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে গাজায় আগ্রাসনে মদদের অভিযোগ তুলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং মিছিল নিয়ে আইরিশ পার্লামেন্টের সামনে অবস্থান নেন।
