ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার সকালে দিল্লির আকাশে যখন তার বহর প্রবেশ করে, তখন রানওয়েতে অবতরণ করে দেখতে হুবহু একই রকম দুটি বিশেষ বিমান। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এক রাষ্ট্রপ্রধানের সফরের জন্য কেন একই সঙ্গে দুটি বিশালাকার বিমান ওড়ানো হয়? আন্তর্জাতিক সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল কারণ হলো পুতিনের অতি-উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চিরাচরিত ‘ডিকয়’ পলিসি।
পুতিন দেশে কিংবা বিদেশে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সফরে গেলে একই নকশার দুটি ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ বিমান প্রায় একই সময়ে আকাশে ওড়ে এবং পাশাপাশি যাত্রা করে। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে রুশ প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন বিমানে অবস্থান করছেন। এর একটি বিমানে প্রেসিডেন্ট নিজে থাকেন, আর অন্যটি ওড়ে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিকল্প হিসেবে। যদি আকাশে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা বড় অন্তর্ঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে হামলাকারীরা যাতে নির্দিষ্ট টার্গেট শনাক্ত করতে না পারে, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এমন ছদ্মবেশ বজায় রাখা হয়। এছাড়া কোনো একটি বিমানে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বিকল্প বিমানে কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টিও এর অন্যতম কারণ।
রাশিয়ার বিশেষ ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিমান দুটি শুধু সাধারণ বাহন নয়। এগুলোকে বলা হয় ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’। জরুরি যুদ্ধাবস্থায় বিমান দুটিকে সরাসরি ভ্রাম্যমাণ সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। আকাশ থেকেই সুরক্ষিত স্যাটেলাইট লিংকের মাধ্যমে রুশ সামরিক বাহিনী, পরমাণু কমান্ড এবং সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে এতে। শত্রুপক্ষের রাডারকে বোকা বানাতে এই বিমানে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি ও অ্যান্টি-মিসাইল শিল্ড। চারটি শক্তিশালী অ্যাভিয়াডভিগাটেল পিএস-৯০এ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনযুক্ত এই বিমান দুটি মাঝআকাশে তেল না ভরেই একটানা ১১ হাজার কিলোমিটার উড়তে পারে, যার ফলে দীর্ঘ ভ্রমণে কোনো তৃতীয় দেশে অবতরণের ঝুঁকি নিতে হয় না। এই চরম সামরিক সুরক্ষার ভেতরে প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশেষ স্যুইট, আধুনিক শৌচাগার, রান্নাঘর, ডাইনিং এরিয়া এবং কনফারেন্স রুম। দিল্লি সফরে পুতিনের জোড়া বিমানের আগমন আরও একবার বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিল রুশ প্রেসিডেন্টের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় ও কৌশলগত সতর্কতার বিষয়টি।
সূত্র: রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া
