চট্টগ্রামে অ্যারিস্টোকেয়ার হাসপাতাল বন্ধে আইনি নোটিশ

ফন্ট সাইজ:

প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, ছাড়পত্র ও নিরাপত্তা সনদ না থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগ এলাকার অ্যারিস্টোকেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। সোমবার এডভোকেট কাজী নুসরাত জাহানের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ রিদুয়ান এ নোটিশ পাঠান। রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং হাসপাতালটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশটি দেয়া হয়েছে।

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, মেহেদীবাগের একটি বহুতল ভবনে অ্যারিস্টোকেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং উদ্বোধনের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে হাসপাতাল হিসেবে ভবনটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র রয়েছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নোটিশে গত ৩১শে জুলাই প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ভবনটি হাসপাতাল হিসেবে নির্মাণের জন্য সিডিএ’র অনুমোদন নেয়া হয়নি। ভবনটির অনুমোদন আবাসিক কাম বাণিজ্যিক হিসেবে নেয়া হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র, পরিবেশগত ছাড়পত্র, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা এবং অনুমোদিত নকশার সঙ্গে ভবনের বাস্তব নির্মাণের অসঙ্গতির অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এতে বলা হয়, অনুমোদিত নকশায় ২০টি পিলার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে ১৭টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে নকশায় একটি লিফটের কথা থাকলেও ভবনটিতে তিনটি লিফট স্থাপন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সিডিএকে সরজমিন ভবনটি পরিদর্শনের পাশাপাশি অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের মিল পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পিলার ও লিফটসংক্রান্ত বিষয়গুলোও তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স যাচাই না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটির উদ্বোধন স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে আইনগত অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া রোগী ভর্তি, অস্ত্রোপচার, রোগ নির্ণয়সহ কোনো ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো অনিয়ম, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ বা নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি পাওয়া গেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৮, ইমারত নির্মাণ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে নোটিশদাতাকে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
অন্যথায় জননিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টে রিট পিটিশনসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু না করার বিষয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে।