বেশির ভাগ ডিসিপ্লিনেরই ‘প্রত্যাশা নেই’

এশিয়ান গেমস

বেশির ভাগ ডিসিপ্লিনেরই ‘প্রত্যাশা নেই’

ফন্ট সাইজ:

কারও ট্রেনিং শুরু হয়েছে মাস খানেক আগে। কারও ট্রেনিংয়ের বয়স মাস দু’য়েক। আবার এতদিন যে ব্যক্তি দলকে ট্রেনিং করিয়েছেন, তার বদলে গেমসে কোচ হয়ে যাচ্ছেন অন্যজন। এসব বিচিত্র ঘটনার মধ্যদিয়েই আইচি-নাগোয়ার এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রায় ২৬০ জন ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তারা জাপান যাচ্ছেন। যারমধ্যে পুরুষ ৯০ ও নারী ক্রীড়াবিদ ৯৭ জন। বাকিরা কর্মকর্তা। ১৪ তারিখ নারী ফুটবল দিয়ে অভিযান শুরু। ২২টি ডিসিপ্লিনে বাংলাদেশ অংশ নিলেও আশা কেবল ক্রিকেট। আরচারি, শুটিং, কাবাডি সম্ভাবনার কথা বললেও পদক জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।

আইচি-নাগোয়াগামী দলকে নিয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। সেখানে অর্থের সংকটের কারণে প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলেছেন বিওএ মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা। তার দাবি ফেডারেশনগুলো চেষ্টা করেছেন, কিন্তু অর্থের কারণে ঠিকমতো প্রস্ততি নিতে পারেননি তারা। যে কারণে ফেডারেশনগুলো হয়তো প্রত্যামাফিক ফলাফল দিতে পারবে না। তবে জাপানগামী দলের দিকে তাকালে অন্তত সেটা মনে হওয়ার কথা না। কারণ তারা দলে রেজাল্টের চেয়ে বিদেশ সফর নিয়ে মহাব্যস্ত। হকি পুরুষ দলের কোচ হিসেবে সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান ডন, ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান শাকিল, জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়না চৌধুরী, উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু, সাবেক রাইফেল শুটার ও শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্না, টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহসিনুল আলম কোচ পরিচয়ে জাপান যাচ্ছেন। ফেডারেশনগুলোর এসব কর্মকর্তারা অন্তত খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের কথা চিন্তা করলে কোচকে বাদ দিয়ে তারা দলের সঙ্গী হতেন না।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সাংবাদিকরা এ নিয়ে প্রশ্নও করেছেন। তবে এসব প্রশ্নের সদোত্তর দিতে পারেননি কর্মকর্তারা। ২২ ডিসিপ্লিনের এই গেমসে বাস্তবিকভাবে ক্রিকেট ছাড়া বাংলাদেশের কোচ সম্ভাবনা নেই। সেটা স্বীকারও করেছেন অলিম্পিকের কর্মকর্তারা। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের সুবিধায় দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়ায় পদক জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে ক্রিকেট ছাড়া বাকি ডিসিপ্লিনগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ অবশ্য আরো বেশ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের পদকের আশার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা জানি কিছু খেলায় পদক পাবো না, তাই বলে কি আমরা তাদের বাদ দিয়ে দেবো? এখানে এফিলিয়েশনের কারণে কিছু জায়গায় অংশগ্রহণ করতে হয়। আমাদের প্রত্যাশা আগে যারা ভাল করেছে, তাদের ঘিরেই আমরা আশাবাদী। কাবাডি, ক্রিকেট, আরচারি, শুটিংয়ে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কারণ অতীতে এই খেলাগুলো থেকে বাংলাদেশ ভালো করেছে।‘ আরচারির সাধারণ সম্পাদক তানভীর রায়হান বলেন, ‘আমরা সারা বছর অনুশীলন করে থাকি। এবার আমরা প্রত্যাশা করছি অন্তত একটি পদক পাবো আরচারি থেকে।’

অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘একজন নারী ও একজন পুরুষ (স্বপ্না ও ইমরানুর)। দুইজন ক্রীড়াবিদ ও দুইজন কর্মকর্তা যাচ্ছেন। এই প্রক্রিয়া আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। আগের কমিটি খেলোয়াড় নির্বাচন করে গেছে।’ সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল বলেন, ‘আমাদের পদকের লক্ষ্য নেই। আমাদের বিগত দিনের চেয়ে ভালো করার চেষ্টা থাকবে।’ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘গেমসের জন্য ১৭শে মে প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমরা কমিটিতে আসার পর ফিটনেসে ঘাটতি ছিল। তাই দেশ সেরা কোচকে নিয়োগ দিয়েছি। আমরা প্রত্যাশা করছি, নারী ও পুরুষ দুই বিভাগে পদক পাবো। যদিও গ্রুপ পর্বে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

আশা করছি, সেটা ওভারকাম করতে পারবো। ছেলেদের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা মেয়েদের তুলনায় বেশি। মেয়েদের বিভাগে বিশ্বের সেরা দুটি দল আমাদের গ্রুপে। যেকোন একটি দলকে হারাতে হবে।’ গত আসরে ১৩তম হয়েছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। আরেক গলফার জামাল হোসেন হয়েছেন ৩৪তম। তবে তৃতীয় গলফার না থাকায় দলগততে পদক পায়নি বাংলাদেশ। এবার সে সম্ভাবনার কথা জানিয়ে গলফ কোচ নাদিম হোসেন বলেন, ‘সিদ্দিকুর রহমান, জামাল হোসেন ও বাদল হোসেনকে র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে মনোনয়ন করা হয়েছে। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, আমরা দলগত ইভেন্টে পদক পাবো।’ ফেন্সিং দলনেতা বলেন, ‘আমারা শুধু ইপিতে খেলবো। এসএ গেমসে পদকজয়ী এবারের দলে আছেন। ছেলেদের দলই যাবে গেমসে। এশিয়ান পর্যায়ে সাফল্যের বিষয়ে বলা মুশকিল। তারপরও আমরা চেষ্টা করবো।’ পরিশেষে বিওএ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘এখানে অনেক প্রশ্ন, অনেক আইডিয়া এসেছে। আশা করছি, এগুলো কাজে লাগিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। এশিয়ান গেমসে আমরা হয়তো তিন, চারটা খেলায় পদকের কাছাকাছি যেতে পারবো। কিন্তু এসএ গেমসে অনেক পদক থাকবে বলে আশা করছি।’