বৃটেনে বাংলাদেশি প্রজাতির ধান চাষের তৃতীয় বছরে সাফল্যের মুখ দেখেছেন গার্ডেনার আজম খান। সাংবাদিক আ স ম মাসুম ও আলাউর রহমানের শাহীনের অনুপ্রেরণায় নিজ বাড়ির বাগানে জিন বিজ্ঞানী আবেদ খানের নির্দেশনায় পঞ্চব্রীহি ধান চাষের পরীক্ষমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২২ সালে আজম খান চেষ্টা শুরু করেন। বৃটেনের বৈরী আবহাওয়া ও অনুপযুক্ত মাটিতে ধানগাছের চারা রোপন করে প্রথম বছরেই সফলতা পান তিনি। এরপর প্রতি বছর চেষ্টা চালিয়ে এবার ধান চাষের পুরোপুরি সাফল্য আসে। বৃটেনে বাণিজ্যিক ভাবে ধান চাষ করতে ইতোমধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ধানের নমুনা দেয়া হয়েছে।
তবে এবার ধানের প্রকল্পের নামে পরিবর্তন এনেছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎপাদিত ধানের প্রকল্পের দেয়া হয়েছে 'আবেদ-আজম রাইস কাল্টিভেশন প্রজেক্ট' .
সোমবার পূর্ব লন্ডনের বেকটনে আজম খানের বাড়িতে ধান চাষের এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ড. মো. নজরুল ইসলাম।
'আবেদ-আজম রাইস কাল্টিভেশন প্রজেক্ট' বা ধান চাষ প্রকল্পটিতে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত ধানের বীজ নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণত উষ্ণ জলবায়ুতে জন্মে এমন ধানের জাতগুলো বৃটেনের অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভিন্ন কৃষি-পরিবেশে সফলভাবে চাষ করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা।
পরিদর্শনকালে ড. মো. নজরুল ইসলাম চাষাবাদ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বৃটেনে ধান চাষের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৃটেনে অপেক্ষাকৃত শীতল আবহাওয়া এবং ধান চাষের উপযোগী জমির সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রাথমিক ফলাফল বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, ফলন, ধানের জাতের কার্যকারিতা কিংবা বৃটেনে ধান উৎপাদনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
বৃটেনের স্বতন্ত্র জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিস্থিতিতে কৃষির নতুন সম্ভাবনা যাচাইয়ের এই উদ্যোগকে একটি আকর্ষণীয় প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে প্রশংসা করেন ড. নজরুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে জমির উপযোগিতা, ভবিষ্যৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আরও গবেষণার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, ধান চাষের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করা পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। যদি বৃটেনের পরিবেশে ধানের জাতটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলন দেয়, তবে বাড়ির বাগানে ছোট পরিসরে করা এই পরীক্ষাগুলো ভবিষ্যতে বড় আকারের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে তাপমাত্রা, দিনের দৈর্ঘ্য, সেচ ব্যবস্থা, মাটির গঠন, পানি নিষ্কাশন এবং উৎপাদন খরচের মতো বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বৃটেনে ধান চাষের সম্ভাবনার বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা ল্যাবরেটরি এবং সেইনসবেরির আগ্রহের কথাও জানা গেছে। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক গবেষণা কর্মসূচি বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তাই এই প্রকল্পে তাদের সম্পৃক্ততার মাত্রা বা প্রকৃতি সম্পর্কে বর্তমানে নিশ্চিত কোনো মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃটেনে ধান চাষের সম্ভাব্যতা নিশ্চিত করতে হলে বেশ কয়েকটি মৌসুমে বৈজ্ঞানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পাশাপাশি ফলন ও উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যগুলোর নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রয়োজন। এছাড়া বীজ নিবন্ধন, উদ্ভিদ-স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শর্তাবলি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মতো নিয়ন্ত্রক ও ব্যবহারিক বিষয়গুলোরও সুরাহা করা জরুরি।
লন্ডনে তৃতীয় বছরে দেশীয় ধান- চায়ের সফল ফলন, প্রকল্প পরিদর্শন করলেন ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার
আরিফ মাহফুজ , লন্ডন থেকে
প্রবাস
১ ঘন্টা আগে
৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার), ২০২৬, ১০ঃ৪৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
