এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই আলোচনায় জাপানের আবাসন সংকট। এবার কোনো প্রচলিত অ্যাথলেটস ভিলেজ থাকছে না; খেলোয়াড়দের জন্য হোটেল, ক্রুজশিপ ও অস্থায়ী কন্টেইনার ধাঁচের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা নিবন্ধিত হওয়ায় আবাসন নিয়ে চাপও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আবাসন নিয়ে স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)। নারী-পুরুষ মিলিয়ে ক্রিকেট থেকে এবার এশিয়ান গেমসে যাচ্ছেন ৪১ জন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য ১৯টি কক্ষ বরাদ্দ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব:)। তার দাবি, আগেভাগে ব্যবস্থা নেয়ার কারণেই ক্রিকেট দলকে আবাসন-সংকটে পড়তে হচ্ছে না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইমরোজ বলেন, ‘ভারত প্রত্যেকটা রুম শেয়ার করছে। তাদের ১১টি রুমে সকলে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের জন্য বরাদ্দ ১৯ কক্ষ। সবাই সিঙ্গেল রুমে থাকবে। একজনকে শেয়ার করতে হচ্ছে।’ বাংলাদেশের আবাসন নিশ্চিত করতে আগেভাগে কাজ করার বিষয়টি তুলে ধরে মেজর ইমরোজ বলেন, ‘কেউ না কেউ ভালো কাজ করেছে, এক ধাপ এগিয়ে এই কাজটা করেছে। এর জন্য আমাদের ক্রিকেট দল ভুগছে না।’ তবে পুরো জাপানেই এখন হোটেলকক্ষ পাওয়া কঠিন বলে দাবি তার। ইমরোজ বলেন, ‘এখন আপনি একটা রুম চাইলে আমি হয়তোবা টয়লেটও দিতে পারবো না আপনাকে। কারণ পুরা জাপানে কোনো হোটেল কোনো রুম নাই।’ এশিয়ান গেমসে এবার বাংলাদেশ অংশ নেবে মোট ২২টি ডিসিপ্লিনে। এর মধ্যে ক্রিকেটকে নিয়েই বড় আশা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। বাংলাদেশের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীনও আশাবাদী— ছেলে ও মেয়েদের দুই ইভেন্টেই ভালো করবেন। গতকাল বিওএ ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সবাই আশা করে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভালো করবে। আমরা সাধারণত খুব বেশি পদক পাই না। কিন্তু যেহেতু ক্রিকেট আছে, আমি মনে করি পুরো দেশ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে যে আমরা যেন ভালো করি।’ সেই আশা পূরণ করা নিয়ে সালাহউদ্দীন বলেন, ‘আমি আশাবাদী আমরা ভালো করবো। যেহেতু খেলাধুলা করতে এসেছি, এখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা চিন্তা করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নাই। আমরা আশা করবো যে ছেলে ও মেয়েরা ভালো করবে এবং আমরা ভালো একটা ফল নিয়ে আসবো।’ ২০১০ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয় ক্রিকেট। সেবারই তারা পায় স্বর্ণপদক। ২০১৪ ও ২০২৩ সালে পরের দুবার তারা পায় ব্রোঞ্জ, মাঝে ২০১৮ সালে ক্রিকেট ইভেন্ট ছিল না। ২০১০ ও ২০১৪ সালে রৌপ্য জেতা মেয়েদের ক্রিকেট দল ২০২৩ সালে জেতে ব্রোঞ্জ। এবার সব দলই মূল দল নিয়ে গেমসে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জ বেশি দেখছেন সালাহউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘কয়েকটি সিরিজ ধরে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলছিলাম না। টি-টোয়েন্টির সঙ্গে কত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারি, ছন্দটা আমরা কত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারি— ছেলেদের এই একটাই বড় চ্যালেঞ্জ আছে।’
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ১০ দল অংশ নিলেও বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। ২৮শে সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হবে, তা ঠিক হবে প্রথম পর্ব শেষে। কোয়ার্টার ফাইনালে জিতলে ১লা অক্টোবর সকাল ৯টায় প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ দল।
