ক্লাস থেকে শিক্ষককে তুলে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার নির্যাতন অধ্যক্ষসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীকে ক্লাস থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদারসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় মামলা করেছেন ওই শিক্ষক। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন বগা, ফয়সাল ওরফে মুরগি ফয়সাল, ইমন, সাজিদ, সালাহ উদ্দিন কাদের ও মনির আহমদকে। মামলার এজাহারে শিক্ষক মিজানুর রহমান দাবি করেন, কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি ও তার কয়েকজন সহকর্মী দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড বিষয়গুলো তদন্ত করছে।

এজাহারে বলা হয়, গত ২৪শে আগস্ট কলেজ ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান। এরপর ২৯শে আগস্ট এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়।
কক্ষে ঢুকে টাকা ছিনতাই, গাড়িতে তুলে নির্যাতন: ২৯শে আগস্ট বিকাল সোয়া ৪টার পর ফয়সাল, ইমন ও সাজিদ তার আবাসিক কক্ষে গিয়ে অধ্যক্ষ ও ওয়াকিল হোসেন বগার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধরের হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে তারা তার কক্ষে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করে এবং বালিশের নিচে রাখা ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এরপর তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নগরের ওয়্যারলেস এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওয়াকিল হোসেন বগাসহ কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সেখানে নেয়ার পর তাকে লোহার রড, লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। ওয়াকিল হোসেন বগা তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। মারধরের একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙ্গুল ভেঙে যায়।

ভিডিও কলে অধ্যক্ষের নির্দেশ, ১০ লাখ টাকা চাঁদা: এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, নির্যাতনের সময় ভিডিও কলে অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদারের সঙ্গে কথা বলেন ওয়াকিল হোসেন বগা। ওই সময় অধ্যক্ষের নির্দেশেই তাকে মারধর করা হয়েছে বলে বাদীর দাবি। মামলায় শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, তাকে বলা হয় চাকরি চালিয়ে যেতে হলে অধ্যক্ষ শ্যামল কান্তি মজুমদার ও ওয়াকিল হোসেনকে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দেয়া অভিযোগ প্রত্যাহার এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানাতেও চাপ দেয়া হয়। প্রাণভয়ে এসব শর্ত মেনে নেয়ার কথা জানানোর পর তাকে দিয়ে অধ্যক্ষের পক্ষে বক্তব্য দেয়ানো হয় এবং তা ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে একটি ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেয়া হয়। এজাহার অনুযায়ী, সন্ধ্যার দিকে তাকে ওয়্যারলেস মোড়ে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সিএনজি অটোরিকশায় করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।