ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল জব্দের ঘটনায় মামলা পর্যন্ত হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী ডিলার বলছেন, ওই চাল আমার না। আমি চাল পাচার কিংবা ভালো চাল পরিবর্তন করে খারাপ চাল ভোক্তাদের দেয়ার মতো কোনো অপরাধমূলক কাজ করিনি। বরং উপজেলা খাদ্য অফিস কর্তৃক যতটুকু চাল আমাকে বরাদ্দ দিয়েছিল ততটুকুই আমার গোডাউনে রয়েছে। গতকাল সরজমিন গেলে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগী ডিলার আনোয়ারুল এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, চাল বিতরণের পর ভোক্তাদের কাছ থেকে আকমুল (ভাতিজা) ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাল কিনে সংগ্রহ করে থাকেন। ওই জব্দকৃত চাল তারই। তবে আমার মাধ্যমেই নেকমরদ চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে চালগুলো বিক্রি করেছিলেন।
আটকের সময় আপনার নাম বলেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে ডিলার বলেন, চাল মালিক আকমুলের নাম না জানার কারণেই মূলত আমার নাম বলেছে। যেহেতু আমার যোগাযোগের মাধ্যমেই চালগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে আকমুল দায় স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, চাল বিতরণের পর ভোক্তাদের কাছ থেকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাল কিনে আমিই সংগ্রহ করে থাকি। এই ১০২ বস্তা চাল আমার। আমি ১ লাখ ২৬ হাজার টাকায় চাচার মাধ্যমে নেকমরদ জাহাঙ্গীরের কাছে বিক্রি করেছিলাম। এদিকে চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, আনোয়ারুল ভাই আমাকে বলেছিল তার ভাতিজার কিছু চাল আছে কিনবা নাকি। তখন তার সঙ্গে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা দাম হয় এবং আমি টাকা দিয়ে দেই। গাড়ি সমস্যার কারণে গাড়ি পাঠাতে রাত হয়।
চাল নিয়ে আসার সময় পরে শুনি স্থানীয় লোকজন গাড়ি আটক করে ড্রাইভারদের গালি-গালাজ করে ভয় দেখাই এবং থানায় খবর দেয়। উল্লেখ্য যে, গত ৩১শে আগস্ট রাতে ৭ নং রাতোর ইউপি’র ভেলাই বাজারে শহীদের চায়ের দোকানের সামনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি হতদরিদ্রদের চালের গাড়ি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা থানায় খবর দেয়। ওই চালের গাড়ি রাণীশংকৈল থানা পুলিশ জব্দ করলে রাণীশংকৈল, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, পরিতোষ কুমার সরকার, ডিলার আনোয়ারুল হক (৫২) এবং মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) দু’জনকে আসামি করে গত ১লা সেপ্টেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।
