অনলাইন জুয়া ও অর্থ পাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

ফন্ট সাইজ:

অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা এবং অবৈধভাবে অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারে জড়িতের অভিযোগে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার রাতে খুলনার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. রাকিবুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম আরজু, শেখ সাকির আহম্মেদ এবং মিয়ানুল ইসলাম অয়ন। ছুফি উল্লাহ বলেন, সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রমে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পায়।

এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফরমে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বেটিং ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এজন্য বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হতো। ব্যবহারকারীরা অর্থ জমা দেয়ার পর তাদের বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট-মানি যুক্ত করা হতো।

পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ অনলাইন জুয়ায় ব্যবহার করা হতো।
সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, অবৈধ লেনদেন আড়াল করতে চক্রটি নিয়মিত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করতো। দেশের বিভিন্ন এলাকার এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরবর্তী সময়ে বেটিং সাইটে এসব নম্বর ও হিসাব প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন। এজেন্টরা সংগৃহীত অর্থ থেকে নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতেন।

পরবর্তীতে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।