একাধিকবার প্রবেশের ভিসা বা মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মালয়েশিয়া সরকার। বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৩১টি দেশের নাগরিকদের জন্য দেশটির অভিবাসন বিভাগের এই নতুন নিয়ম গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে সব দেশের জন্য এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা আর সার্বিকভাবে উন্মুক্ত থাকবে না।
মালয়েশিয়ার ভিসা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফরম মাইভিসার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোধ ও অভিবাসন ব্যবস্থা সুসংগঠিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন সাধারণ ছুটি কাটানো বা সামাজিক সফরের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাধ্যতামূলকভাবে একবার প্রবেশের ভিসা বা সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিতে হবে। পূর্বে ঢালাওভাবে একাধিকবার প্রবেশের সুবিধা থাকার কারণে অনেকে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে এসে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে নিতেন। এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে সাধারণ পর্যটকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকেরা সাধারণ পর্যটনের নামে একাধিকবার প্রবেশের ভিসা পাবেন না। এটি পেতে হলে তাদের অবশ্যই প্রমোদতরী ভ্রমণ প্যাকেজ, আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক সফর, উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ কিংবা বিবাহ সংক্রান্ত পর্যটন—এই চারটির যেকোনো একটি উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হবে।
নতুন নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, ক্যামেরুন, এ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, ঘানা, আইভরি কোস্ট, কলম্বিয়া, জিবুতি, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, গিনি-বিসাউ, লাইবেরিয়া, মালি, মন্টিনিগ্রো, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, নাইজার, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, বুর্কিনা ফাসো, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে, এই কড়াকড়ি কেবলমাত্র সাধারণ ভ্রমণ ও ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বা বৈধ ওয়ার্ক পারমিটের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না। যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে ভ্রমণকারীদের মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট দেখে তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
