ইংল্যান্ডে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞায় ইতিবাচক প্রভাব, বাড়ছে মনোযোগ ও সামাজিকতা

ইংল্যান্ডে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞায় ইতিবাচক প্রভাব, বাড়ছে মনোযোগ ও সামাজিকতা

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরের জুন মাস থেকে ইংল্যান্ডের সব স্কুলগুলোতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারের কড়া নির্দেশনার পর স্কুলের শ্রেণী কক্ষ ও স্কুল ক্যাম্পাসে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। প্রায় ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এর ইতিবাচক ফলাফল পেতে শুরু করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকরা। খোদ শিক্ষার্থীরাও স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে ইতিবাচক প্রভাববের কথা ব্যক্ত করছে। তাঁরা বলছে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কারণে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বাড়ার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে সরাসরি কথাবার্তা ও সামাজিক যোগাযোগও বেড়েছে। একই মতামত প্রকাশ করেছেন স্কুলগুলোর শিক্ষক ও অভিবাবকরা।

শিক্ষর্থীরা মনে করছেন, সকালে স্কুলে এসে আগে অনেকেই ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকত। এখন ফোন ব্যবহার করতে না পারায় সবাই একে অপরের সঙ্গে কথা বলে এবং দিনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষেও মনোযোগ বাড়ছে, কারণ ফোনের নোটিফিকেশন বা মেসেজ মিস করার চিন্তা আর থাকে না। ফোন যখন ব্যবহারের কোনো সুযোগই থাকে না, তখন সেটি নিয়ে ভাবনাও কমে যায়। ফলে ক্লাস চলাকালে ফোন দেখার প্রলোভন থাকে না এবং পড়াশোনায় আরও ভালোভাবে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়। আগে কিছু শিক্ষার্থী টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করত। নিষেধাজ্ঞার পর সেই প্রবণতা কমেছে এবং তারা ক্লাসে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

শিক্ষকরা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া বেশ ভালো। তাঁর মতে, ফোন নিষিদ্ধ হওয়ার পর স্কুলের পরিবেশ আগের তুলনায় ‘আরও প্রাণবন্ত ও কোলাহলপূর্ণ’ হয়েছে, কারণ শিক্ষার্থীরা এখন আবার একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে। নিয়ম চালুর পর কিছু শিক্ষার্থী তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে কয়েকটি ছোটখাটো সমস্যা ছাড়া বিষয়টি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখন মোবাইল ফোন রাখার পাউচ স্কুলজীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বলছে, স্কুলে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা শুধু শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বাড়াচ্ছে না, বরং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সামাজিকতাও ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে।