স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটকে ফ্যাসিবাদী শক্তির ‘ভোটব্যাংক’ হিসেবে দেখার ধারণা ভেঙে গেছে। তিনি আরও বলেছেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশের সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের তাদের ‘ভোটব্যাংক’ মনে করত, সেই ভ্রান্ত ধারণা ও মিথ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভেঙে দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পলাশীর মোড়ে জন্মাষ্টমীর মিছিলের আগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে পলাশীর মোড় থেকে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের উদ্দেশে মিছিল ও শোভাযাত্রা শুরু হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আপনারা বিচার করেছেন। বিগত নির্বাচনে আপনারা অসুর শক্তির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ়করণের জন্য অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখার জন্য আপনাদের ভূমিকা থাকবে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত ছয় মাসে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দৃশ্যমান। বাংলাদেশের সংবিধানে সকল ধর্মের ধর্মচর্চার ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রকে, রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। বলা হয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না সেটাও আছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সকল ধর্মাবলম্বী উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ে যারা কর্তা তাদের স্বাধীনতা উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা বলতে গিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটি ব্যবহার না করলেই ভালো হতো। আমরা ব্যাকরণগতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটা ব্যবহার করি। কেননা এই শব্দটা সাহিত্যে ধারণ করে গেছে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। ভালো হতো যদি সাম্প্রদায়িক শব্দটা আমরা ব্যবহার না করতাম। আমরা যদি বলতাম সামাজিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব। আজকে থেকে বলব ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব। সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখব। কেউ আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দের উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। এটা হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি সহাবস্থান এবং সামাজিক শান্তি এবং সম্প্রীতি। আমরা সম্প্রীতি বজায় রাখব।
বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউ যেন আর নিজেকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দেন সেই আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউই সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না। আমরা আশা করি, আপনারা কেউ ধর্মের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন না; নাগরিকত্বের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন।
সমাবেশটির সভাপতিত্ব করেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।
