নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শুধু একটি মানবিক বিপর্যয় নয়, এটি ভবিষ্যতের বিপদের এক নির্মম পূর্বাভাস। হিমবাহ ও পাথরধস থেকে সৃষ্ট প্রবল জলস্রোত কয়েক মুহূর্তের মধ্যে জনপদ, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জীবিকার অবলম্বন নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ হিসাবে নেপালে অন্তত ১ হাজার ২৫২ জনের মৃত্যু এবং ৪ হাজার ২০০ জনের বেশি নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। তিব্বতেও প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২০ হাজার ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে হবে বলে ধারণা করছে নেপাল সরকার। ফলে দুর্যোগটির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো চূড়ান্ত নয়।
এই বিপর্যয় আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলেছে। দুর্যোগ ঠেকানো সব সময় সম্ভব নয়, কিন্তু তার আঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু কি অনিবার্য? উত্তরটি স্পষ্ট, না। প্রকৃতির শক্তি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কিন্তু বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, আগাম সতর্কতা, নিরাপদ অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত উদ্ধারব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীল ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রাণহানি বহুলাংশে কমানো যায়। এখানেই বাংলাদেশের অর্জন যেমন আছে, তেমনি রয়েছে উদ্বেগজনক দুর্বলতা।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত। উপকূলীয় আশ্রয়কেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মাইকিং এবং মানুষের সচেতনতা অতীতের তুলনায় প্রাণহানি অনেক কমিয়েছে। একসময় যে মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের মৃত্যু হতো, এখন তুলনামূলক শক্তিশালী ঝড়েও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। এই অর্জন প্রমাণ করে, যথাযথ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সামাজিক অংশগ্রহণ থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো যায়।
কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের সাফল্যকে সামগ্রিক দুর্যোগ প্রস্তুতির প্রমাণ ধরে নেওয়া বিপজ্জনক। বাংলাদেশ এখনো ভূমিকম্প, নগর অগ্নিকাণ্ড, পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা, বাঁধভাঙা পানি, বজ্রপাত, তাপপ্রবাহ এবং শিল্প দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে একই মানের প্রস্তুতি গড়ে তুলতে পারেনি। আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এখনো অনেকাংশে ঘটনা ঘটার পর ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধারকাজে কেন্দ্রীভূত। অথচ আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূলনীতি হলো, বিপর্যয় ঘটার আগেই ঝুঁকি কমানো।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে বহু বছর ধরে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সরু সড়ক, দুর্বল ভবন, বিধিবহির্ভূত নির্মাণ, দাহ্য পদার্থের অনিরাপদ গুদাম এবং অপর্যাপ্ত খোলা জায়গা উদ্ধার তৎপরতাকে ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ভূমিকম্পে শুধু ভবনধসেই মানুষ মারা যায় না। অগ্নিকাণ্ড, গ্যাসের লাইন বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিপর্যয়, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়াও মৃত্যুর সংখ্যা বহুগুণ বাড়ায়।
জাপান ভূমিকম্প বন্ধ করতে পারেনি, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কয়েক দশক ধরে কঠোর ভবনবিধি, ভূকম্পন সহনশীল প্রযুক্তি, নিয়মিত মহড়া এবং দ্রুত সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সেখানে স্কুলের শিশু থেকে রেলওয়ে কর্মী পর্যন্ত জানেন কম্পন শুরু হলে কী করতে হবে। ভবনের নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ বিধি অনুযায়ী হচ্ছে কি না, সেটিও কঠোরভাবে দেখা হয়। পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের জন্য আছে নির্দিষ্ট কর্মসূচি। দেশটির ভূমিকম্প প্রস্তুতির মেরুদণ্ড কেবল প্রযুক্তি নয়, নিয়ম মানার সংস্কৃতি।
বাংলাদেশের জন্য জাপানের সব প্রযুক্তি অবিলম্বে গ্রহণ করা হয়তো আর্থিকভাবে সম্ভব নয়। কিন্তু ভবনবিধি কার্যকর করা, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা, জরুরি সড়ক চিহ্নিত করা এবং নগরভিত্তিক উদ্ধার মহড়া আয়োজন করতে জাপানের সমান সম্পদ প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন প্রশাসনিক সদিচ্ছা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়।
ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কিছু সময়ের সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু এই সামান্য সময়েও রেল থামানো, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, অস্ত্রোপচারকক্ষ প্রস্তুত করা এবং মানুষকে নিরাপদ অবস্থান নিতে বলা সম্ভব। বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে বড় কম্পন শনাক্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প এলাকা ও গণপরিবহনে তাৎক্ষণিক সংকেত পৌঁছে যায়। তবে সতর্কসংকেত তখনই কাজে আসবে, যখন মানুষ সেই সংকেতের অর্থ এবং করণীয় আগে থেকেই জানবে।
ভূমিধসের ঝুঁকিও আর পাহাড়ি অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসতি নির্মাণ প্রতিবছর মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে। অতি বৃষ্টিকে দায়ী করা হলেও এর পেছনে মানুষের কর্মকাণ্ডের দায় এড়ানো যায় না। যেসব পাহাড় পানি ধারণ ও মাটির ভারসাম্য রক্ষা করত, সেগুলো কেটে বসতি ও স্থাপনা নির্মাণ করা হলে ভারী বর্ষণে ধস নামবেই।
ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোতে অনেক এলাকায় বৃষ্টির মাত্রা, মাটির আর্দ্রতা এবং পাহাড়ের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণে সেন্সর ব্যবহার করা হয়। ঝুঁকি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের কাছে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। বাংলাদেশেও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে স্বয়ংক্রিয় বৃষ্টিমাপক যন্ত্র, মাটির আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং সাইরেন বসানো সম্ভব। তবে শুধু যন্ত্র বসিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। সতর্কতা পাওয়ার পর মানুষ কোথায় যাবে, কে তাদের সরাবে, আশ্রয়কেন্দ্রে নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে, এসব আগেই নিশ্চিত করতে হবে।
নেপালের বিপর্যয় আরেকটি বাস্তবতা সামনে এনেছে। হিমালয়ের হিমবাহ গলে নতুন হ্রদ তৈরি হচ্ছে এবং পুরোনো হ্রদের আয়তন বাড়ছে। বরফ, পাথর বা ভূমিধসের চাপে কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে প্রবল জলস্রোত দ্রুত ভাটির দিকে নেমে আসতে পারে। বাংলাদেশ হিমবাহের দেশ নয়, কিন্তু হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলোর ভাটিতে অবস্থিত। ফলে উজানের বৃষ্টিপাত, হিমবাহ গলন, নদীর গতিপথ এবং জলাধারের পরিস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এই কারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে শুধু জাতীয় সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নেপাল, ভুটান, ভারত, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে নদীর পানিপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, হিমবাহ হ্রদ এবং বাঁধসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উজানে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য যদি কয়েক ঘণ্টা আগেও পাওয়া যায়, তাহলে ভাটির অসংখ্য মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। পানি কূটনীতি তাই শুধু শুষ্ক মৌসুমে পানির হিস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয় নয়। এটি জীবন রক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতারও প্রশ্ন।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যে জাতিসংঘের “সবার জন্য আগাম সতর্কতা” উদ্যোগের অধীনে ২০২৫ থেকে ২০৩০ মেয়াদের জাতীয় রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। এতে ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা প্রচার এবং আগাম পদক্ষেপের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এটি ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু রোডম্যাপের সাফল্য নির্ভর করবে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস দপ্তর বলছে, সতর্কতা হতে হবে বহুমাত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মানুষের কাছে বোধগম্য।
বর্তমানে একই দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন দপ্তর ভিন্নভাবে প্রচার করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই একটি সমন্বিত জাতীয় জরুরি সতর্কতা কাঠামো প্রয়োজন। মোবাইল নেটওয়ার্কের সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সব ফোনে একযোগে সতর্কবার্তা পাঠানো যায়। এর জন্য স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সংযোগেরও প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি সাইরেন, রেডিও, টেলিভিশন, মসজিদের মাইক এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক সচল রাখতে হবে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ হলে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, অপেশাদার রেডিও এবং বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা ব্যবহারের সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।
দুর্যোগ প্রস্তুতির আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের কেন্দ্রীকরণ। বড় ভূমিকম্পে ঢাকার সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে দূরের ঘাঁটি থেকে ভারী উদ্ধারযন্ত্র এনে সময়মতো কাজে লাগানো কঠিন হবে। তাই নগরের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ছোট জরুরি সরঞ্জামকেন্দ্র স্থাপন করা দরকার। সেখানে কংক্রিট কাটার যন্ত্র, তাপ শনাক্তকারী ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, প্রাথমিক চিকিৎসা উপকরণ, পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থা এবং অস্থায়ী আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রশিক্ষিত কমিউনিটি উদ্ধারদল থাকলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী পৌঁছানোর আগের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ঘণ্টায় বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
হাসপাতালের প্রস্তুতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি বড় দুর্যোগে হাসপাতাল নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো উদ্ধারব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ভবন নিরাপত্তা, জরুরি বিদ্যুৎ, পানি, অক্সিজেন, রক্ত, ওষুধ এবং অতিরিক্ত রোগী গ্রহণের সক্ষমতা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোন হাসপাতাল কতজন আহত মানুষ নিতে পারবে এবং সড়ক বন্ধ হলে রোগী কোথায় স্থানান্তর করা হবে, তার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা থাকতে হবে।
প্রকৃতির ওপর নির্বিচার হস্তক্ষেপ বন্ধ না করলে প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতিও যথেষ্ট হবে না। নদী দখল, জলাভূমি ভরাট, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনাকে মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ে পরিণত করে। যে জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধরে রাখত, সেটি ভরাট করে ভবন নির্মাণের পর জলাবদ্ধতার জন্য শুধু বৃষ্টিকে দায়ী করা আত্মপ্রবঞ্চনা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, ভূমি ব্যবহার এবং নগর পরিকল্পনাকে তাই একই নীতির অধীনে আনতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে অর্থের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু সম্পূর্ণ অসহায় হওয়ার কোনো কারণ নেই। দুর্যোগ প্রতিরোধে বিনিয়োগকে ব্যয় হিসেবে না দেখে জীবন, অর্থনীতি ও উন্নয়ন রক্ষার বীমা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার, একটি পাহাড়ি বসতি আগাম সরানো কিংবা একটি কার্যকর সতর্কতা ব্যবস্থা নির্মাণের খরচ বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠনের ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
নেপালের ধ্বংসযজ্ঞ আমাদের আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, দুর্যোগ ক্যালেন্ডার দেখে আসে না। সতর্কবার্তা, মহড়া, ভবনবিধি, উদ্ধার সক্ষমতা, আঞ্চলিক তথ্য বিনিময় এবং পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা বিপর্যয়ের আগে কার্যকর করতে হয়। দুর্যোগের পরে তদন্ত কমিটি, শোকবার্তা ও ত্রাণ বিতরণ প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু সেগুলো হারানো জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে না।
প্রকৃতিকে থামানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। কিন্তু একটি ভূমিকম্পকে নগর গণকবরে, একটি পাহাড়ধসকে প্রতিবছরের মৃত্যুচক্রে কিংবা একটি আকস্মিক বন্যাকে জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হতে না দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব। প্রশ্ন শুধু আমরা কী করতে পারি, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, বিপদ সামনে দেখেও আমরা আর কত দিন প্রস্তুতি পিছিয়ে রাখব?
লেখক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি।
ই-মেইল: [email protected]
