সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হালকা বা পাতলা (ডাইলিউটেড) করতে রাজি ইরান। তবে তার আগে তারা সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি । এটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরানের অবস্থানের অন্যতম স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত সপ্তাহে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকরা বৈঠক করেন। এই আলোচনা শুরু হয় এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই অঞ্চলে একটি নৌবহর মোতায়েন করেন। ফলে নতুন করে সামরিক অভিযানের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে। এ আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়। যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত বছর ট্রাম্প ইসরাইলের বোমা হামলা অভিযানে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালান। গত মাসে বিক্ষোভ চলাকালে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দেন তিনি, যদিও শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে আসেন। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত পরিত্যাগ করতে হবে। যার পরিমাণ জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী গত বছর ছিল ৪৪০ কেজিরও বেশি। এই ইউরেনিয়াম সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ, যা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মানের (৯০ শতাংশ) খুব কাছাকাছি।
সোমবার ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার সম্ভাবনা নির্ভর করে এর বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, তার ওপর। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনা’কে দেয়া বক্তব্যে ইসলামি আরও বলেন, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ওঠেনি।
ওদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানির মঙ্গলবার ওমান সফর করার কথা বলে জানিয়েছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। এতে বলা হয়, এই সফরে লারিজানি ওমান সালতানাতের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন স্তরের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। পরবর্তী দফার আলোচনার তারিখ ও স্থান ঘোষণা করা হয়নি। তবে সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, নতুন দফার আলোচনা এই ইস্যুর ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের একটি উপযুক্ত সুযোগ হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সর্বোচ্চ চাপের নীতি এড়িয়ে চলে এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান করে, তাহলে কাক্সিক্ষত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি অব্যাহত রাখবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ তাদের পারমাণবিক অধিকার থেকে পিছু হটবে না।
গত বছর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে পাঁচ দফা আলোচনা করে। তবে ইরানের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিরোধের কারণে সেই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। ট্রাম্পের হামলার পর তেহরান দাবি করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে। তবে তেহরান এই প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার প্রচারিত এক টেলিভিশন ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আসন্ন বার্ষিকীতে অংশ নিতে ইরানিদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মিছিলে জনগণের উপস্থিতি এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি তাদের আনুগত্যের প্রকাশ শত্রুদের ইরানের প্রতি লোভ করা থেকে বিরত রাখবে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে আগে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় ইরান
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
৪ মাস আগে
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৪ঃ১১ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
