দেশের পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাত আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ট্রেড প্রদর্শনী ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট (বিটিএম) ২০২৬’।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আউটবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বোটোয়া)।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজে নানা ছাড় দিচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। বিভিন্ন স্টল থেকে দর্শনার্থীরা ট্যুরের নানা তথ্য জেনে নিচ্ছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বোটোয়া সভাপতি সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্টকে আমরা শুধু একটি প্রদর্শনী হিসেবে দেখছি না। এটি বাংলাদেশের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য দেশি-বিদেশি বায়ার, সেলার ও পর্যটন সেবাদাতাদের একই জায়গায় এনে বাস্তব ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করা।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়লে দেশের পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন বাজার, বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
বোটোয়ার সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, ‘আমরা এমন একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাভেল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রদর্শনী দেখার পাশাপাশি বাস্তব ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও ফলপ্রসূ বি২বি মিটিং হবে। একই সঙ্গে সাধারণ ভ্রমণপ্রেমীরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গন্তব্যের অফার সরাসরি যাচাই করার সুযোগ পাবেন।’
ট্রাভেল মার্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর মহসীন ইকবাল বলেন, অনলাইন পিএসএ ব্যবস্থার মাধ্যমে বায়ার ও সেলারদের আগেই পরস্পরের সঙ্গে মিটিং নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীরা পরিকল্পিতভাবে সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, বিটিএম ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারীরা শুধু নেটওয়ার্কিং নয়, বাস্তব ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, নতুন অংশীদার এবং ভবিষ্যৎ বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে ফিরবেন।’
আয়োজকরা বলছেন, বিটিএম-২০২৬ শুধু তিন দিনের একটি আয়োজন নয়; ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার একটি নিয়মিত ট্রেড প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি গড়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বায়ার-সেলার মিটিং, ট্রেড নেটওয়ার্কিং এবং দেশি-বিদেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে পর্যটন, হসপিটালিটি ও এভিয়েশন খাতে নতুন ব্যবসা, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
