‘জীবদ্দশায় এগুলো দেখতে হবে কল্পনায়ও আসেনি’

‘জীবদ্দশায় এগুলো দেখতে হবে কল্পনায়ও আসেনি’

ফন্ট সাইজ:

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। ছিলেন পরিবারের ছোট মেয়ে। সবার আদরের। সারাদিন দুষ্টুমি আর ছোটাছুটি করা তার প্রতিদিনের কাজ ছিল ছোটবেলায়। বড় দুই বোন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী ফরিদা ইয়াসমিন এবং নিলুফার ইয়াসমিন প্রতিদিন গানের ওস্তাদের কাছে তালিম নিতেন। সেই সময় সাবিনা ইয়াসমিন খেলার ছলে ওদের সঙ্গে বসতেন, সেই থেকেই সংগীতের প্রতি ভালোবাসা। আজ এ শিল্পীর জন্মদিন।

বিশেষ এ দিনসহ নানা বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন মানবজমিনের সঙ্গে। কেমন আছেন? সাবিনা বলেন, আল্লাহ্ অনেক ভালো রেখেছেন। জন্মদিনে প্রথম প্রহরে কে শুভেচ্ছা জানায় আপনাকে? এ শিল্পী বলেন, প্রথমেই আমার দুই ছেলে-মেয়ে থেকে শুভেচ্ছা পাই। কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও হয়েছে। আমার গুণমুগ্ধ ভক্তরাও দেশ-বিদেশ থেকে শুভেচ্ছা জানায়, যা আমাকে আপ্লুত করে। বাবা-মায়ের মধ্যে কার সান্নিধ্য বেশি পেয়েছেন ছোটবেলায়? সাবিনার ভাষ্য, দু’জনের সান্নিধ্যই পেতাম। তবে সংগীত জীবনে আমাকে সাফল্যের পথ দেখিয়েছেন আমার মা। যেহেতু মা সব সময় আমার সঙ্গে থাকতেন। মায়ের কোন বিষয়টি আপনাকে আনন্দ দিতো? সাবিনার উত্তর— মায়ের হাতে অমৃত সমান বাহারি রান্না। উফ, কি বলবো! সেই মুঘল ডিশ থেকে পোড়া বেগুন ভর্তা সবকিছুই তার হাতের জাদুতে অমৃত হয়ে উঠতো। বোনদের মধ্যে কার কাছে আবদার বেশি করতেন? সাবিনা বলেন, আমি আর নিলুফার ইয়াসমিন পিঠাপিঠি বোন। তাই ওর সঙ্গেই দুষ্টুমি ও আবদার চলতো আমার। মায়ের মৃত্যুর পর আমার বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন সব সময় আমাদের আগলে রেখেছেন। মায়ের প্রতিচ্ছবি আমি তার মধ্যে পেতাম। বোনরাই ছিলেন আমার সংগীতের পথের দিশারি। আজ যে সাবিনা ইয়াসমিনকে মানুষ চিনে, তার পেছনে ওদের ভালোবাসা অতুলনীয়। ছোটবেলার জন্মদিন কীভাবে পালন করতেন? সাবিনা বলেন, যখন সংগীতে আমার একটু একটু পরিচিতি গড়ে উঠেছে, সে সময় থেকেই জন্মদিন নিয়ে আমার ভেতরে কোনো উন্মাদনা ছিল না, এখনো নেই। কিন্তু যখনই জন্মদিন হতো, অদ্ভুত বিষয় তখনই বিদেশে আমার গানের প্রোগ্রাম থাকতো। কীভাবে জানি আয়োজকরা আমাকে সারপ্রাইজ দিতেন জন্মদিনের। আর মা যখন জীবিত ছিলেন, তখন মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করতাম, তিনি আমাকে সালামি দিতেন। সাম্প্রতিক সময়ে একটি শ্রেণির আপত্তির মুখে কনসার্ট কিংবা গানের অনুষ্ঠান বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে? নিশ্চয়ই শুনেছেন? সাবিনা বলেন, হ্যাঁ শুনেছি। কি ভয়ঙ্কর বিষয় এটি। জীবদ্দশায় এগুলো দেখতে হবে কল্পনায়ও আসেনি। সংগীতের সঙ্গে কেন তারা ধর্মকে গুলিয়ে ফেলে আমার ভাবনায় আসে না। ধর্ম তো যার যার বিশ্বাসের জায়গা।