পুলিশের ভূমিকা পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ

রংপুরে মাছুয়াপাড়া হত্যাকাণ্ড

পুলিশের ভূমিকা পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের মাছুয়াপাড়ার চার খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে ঘটনার শুরুতেই অভিযুক্ত করে সিদ্ধান্ত, তাদের মাদক সেবনকে ঘিরে হত্যাকাণ্ড, ছাদের আলামত ধুয়ে ফেলা, একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্যে স্থানীয় পুলিশের ভূমিকা ঘিরে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে। একাধিক সরকারি সংস্থার তদন্তে ঘটনার পুরো বিষয় উঠে এসেছে। পুলিশের দায় এবং দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এই তদন্তে। গত ২১শে আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। ঘটনার পর দ্রুতই অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তার পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও পরে পুলিশের একের পর এক পদক্ষেপ প্রশ্ন তৈরি করে। হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে তৈরি হয় নানা জিজ্ঞাসা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার সুযোগ তৈরি করে পুলিশের এই অবস্থান। তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী ঘটনা ও এর বিস্তারিত পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য সময়: তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১শে আগস্ট ভোরে রংপুর জিলা স্কুলের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে (১২) মহানগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাসার দ্বিতীয় তলায় শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঘটনার পর নিহত শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়িটি ছিল তালাবদ্ধ এবং ভেতর থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এরপর গণপতির স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ২২শে আগস্ট আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টায় দরজা ভেঙে চারজনের পচন ধরা মরদেহ উদ্ধার করে। গণপতির লাশ ছাদে, তার স্ত্রী ও মেয়ের লাশ সিঁড়িতে পাওয়া যায়। ছোট ছেলে প্রিয়মের লাশ শোয়ার ঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ প্রথম সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডটি গভীর বা শেষ রাতে হয়েছে বললেও আসামিরা ভোরের আলো ফোটার সময় হত্যা করেছে এমনটাই জবানবন্দিতে জানায়।

আটক ও গ্রেপ্তার: গত ২৩শে আগস্ট গভীর রাতে পুলিশ মাছুয়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় দুই যুবক মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাই সিদ্ধার্থ দাস (১৯)কে আটক করা হয়। ওইদিন আনুমানিক সকাল ১০টায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ডিআইজি আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ঘটনার পর্যায়ক্রম ও ব্যাখ্যাসহ এর সঙ্গে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এই সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম, সংখ্যালঘু সমপ্রদায়সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পুলিশের বক্তব্যের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করে। বাড়তে থাকে রহস্য।

মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিনা: নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে গত ২৩শে আগস্ট রংপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ ও সিআইডি মাছুয়াপাড়া এলাকায় অভিযুক্তদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস গ্রেপ্তার এড়াতে প্রায় ৩ কিলোমিটার দৌড়ে মাছুয়াপাড়ার দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। শ্মশানটির একমাত্র পাহারাদার ও কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাস। তিনি আদালতে রাজসাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বলেন, ‘শ্মশানে তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছিলেন। মুগ্ধ দাস হাঁপাতে হাঁপাতে তার সামনে আসে। খুব ক্লান্ত অবস্থায় বসে পড়ে। বলে, দাদা, আমাকে একটু পানি দাও। একটু আশ্রয় দাও। আমি গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে চলে আসছি। আমি এবং সিদ্ধার্থ দাস খুন করেছি’। এসব শুনে এবং বিপদে পড়ার ভয়ে বিদ্যুৎ দাস তাকে পানি ও আশ্রয় দিতে অস্বীকার করেন। এরপর পুলিশ তাকে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করে। বিদ্যুৎ দাস ঘটনার সত্যতাও স্বীকার করেন।

মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ মাদকসেবী কিনা এটি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০শে আগস্ট রাতে আসামিরা পাশের ভবনের ছাদ টপকে গণপতি চক্রবর্তীর ছাদে যায়। সেখানে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। গণপতি তাতে বাধা দেন। আর এতেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। স্থানীয় পর্যায়ে তদন্তে তারা প্রায়ই মাদকসেবন করতো এমন তথ্য পাওয়া গেলেও তারা মাদকসেবী নয় বলে অনেকে মত প্রকাশ করেন। তবে আদালতে সাক্ষী হিসেবে আসামিদের বন্ধু সীমান্ত চন্দ্র দাস ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। সেখানে ঘটনার রাতে আসামিদের সঙ্গে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করে।

খুনের পূর্বে ধর্ষণ করা হয়েছে কিনা? ডোমের বক্তব্য ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক: ফরেনসিক রিপোর্টে চিকিৎসক ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি বলে জানান। তবে ডোম ৭১ টিভিকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মরদেহে বীর্য দেখা গেছে’। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এদিকে ফরেনসিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ধর্ষণের কোনো আলামত মেলেনি। ডোমের ওই বক্তব্য ধরে তিনি জানান, শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে মলমূত্রের সঙ্গে সিমেন বের হয়ে যায়। সেটাকেই ডোম বীর্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়াও লাশ উদ্ধারের সময় ভিকটিমদের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে আগামী চক্রবর্তীর পরনে পোশাক ঠিক ছিল। প্রীতিলতা-এর গায়ে ম্যাক্সি নিচ থেকে কোমর পর্যন্ত উঠানো ছিল।

ওদিকে হত্যাকাণ্ডকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ট্যাগ দিতে এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেয়া এবং কোপানো হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়েছিল। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া লাশে কোনো রক্ত ছিল না, ঘরে কিংবা ছাদেও কোনো রক্তের আলামত দেখা যায়নি। এ ছাড়াও ফরেনসিক রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়। ফরেনসিক চিকিৎসকের মতে, লাশ পচনের জন্য মুখের বিকৃতি হয়েছে। লাশে কোনো এসিডের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও আসামির একই ধরনের শার্ট কেন এই প্রশ্নও তৈরি হয়। তবে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আড়ং জানিয়েছে, তাদের এ ধরনের শার্ট বর্তমানে স্টকে নেই। ওদিকে লাশ উদ্ধারের সময় শিক্ষক পরিবারের বাসায় বিদ্যুতের সংযোগ না থাকায় একজন ইলেক্ট্রিশিয়ানকে আনা হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে মেইন খুঁটি থেকে বিদ্যুৎ এর সংযোগ দেয়া হয়। আসামিরা সিসিটিভি ফুটেজ এড়াতে বাসার মিটার থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছে পুলিশ এটি উল্লেখ করলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা নেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেনি বলে জানিয়েছে।

ছাদের আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগ: গত ২৬শে আগস্ট রাতে পুলিশ পাহারায় থাকা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির লাইট বন্ধ করে ছাদের পানির মোটর ছেড়ে ছাদ ও সিঁড়ি ধুয়ে সব আলামত নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন অভিযুক্ত সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস। তবে কর্তব্যরত পুলিশ তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছে তারা ভুলে লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে মোটরের সুইচ দেয়ায় মোটর চালু হয়ে যায়। এতে পানি উপচে পড়ে। তবে পার্থ তার ভাইকে ফাঁসানোর জন্য পুলিশ পরিকল্পিতভাবে আলামত নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ করেন।

পুলিশের বক্তব্য পরিবর্তন: গত ২৭শে আগস্ট বিদায়ী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে তার আগের ভাষ্য পরিবর্তন করে বলেন, হত্যাকাণ্ডটি গভীর বা ভোররাতে নয়, সকালে দিনের আলো ফোটার সময় খোলা ছাদে ঘটেছে। এ ছাড়া তিনি গণপতির জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও সামাজিক জাতিগত দূরত্বের বিষয়ও হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি ব্রিফিং ত্যাগ করেন।

২৯শে আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক খবরের কাগজের সাংবাদিক সেলিম সরকারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস এবং পিতা বিনয় দাস। এ সময় ডিবি পুলিশ আসামির বাড়ির সামনে থেকে তাদের আটক করে। ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ‘ভবিষ্যতে ডাকলেই ডিবি অফিসে হাজির হতে হবে’- মর্মে মুচলেকা নিয়ে রাতে তাদের স্বজন বকুল চন্দ্র সরকারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে আসামির পিতা ও ভাইকে ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটকের বিষয়টি ফের বিতর্ক সৃষ্টি করে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের তড়িঘড়ি সংবাদ সম্মেলন, সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনারের কান্না, অপ্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশসহ নানা কারণে হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। আর এটিই তদন্তের শুরুতেই সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সততাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যের ধারাবাহিক পরিবর্তন তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার সময়, ভুক্তভোগীদের মরদেহের অবস্থান এবং অপরাধের সামগ্রিক পটভূমি নিয়ে অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ উপস্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের এই স্ববিরোধী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সচেতন মহলে তীব্র সন্দেহের জন্ম দেয়। প্রকৃত সত্যকে আড়াল করতে কোনো কাল্পনিক চিত্রনাট্য তৈরি করা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নও ওঠে।

এ ছাড়া স্পর্শকাতর মামলায় আসামিদের মাদকাসক্তির মাত্রা পরীক্ষা বা অন্যান্য ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণাদি চূড়ান্তভাবে প্রমাণের আগেই পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছে। বস্তুনিষ্ঠ ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও কেবল আসামিদের তড়িঘড়ি জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তদন্ত শেষ করার এই প্রবণতা অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি বলে তদন্তকারীরা উল্লেখ করেন।

তদন্ত সূত্র উল্লেখ করেছে, মাত্র দু’জন ‘অপ্রশিক্ষিত’ বা সাধারণ মাদকাসক্ত তরুণ যাদের পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই- এমন ব্যক্তিদের পক্ষে কোনো জোরালো ধস্তাধস্তি বা প্রতিরোধ ছাড়াই একটি পরিবারের চারজন সদস্যকে অত্যন্ত নিখুঁত ও ঠাণ্ডা মাথায় খুন করার বিষয়টি অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুইজনকে আটক করা, আসামিদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়া, রাজসাক্ষী কর্তৃক একজন খুনির স্বীকারোক্তি দেয়ার তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি থাকলেও পুলিশের কর্মকাণ্ডের কারণে বিষয়টি জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করে বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়।