তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, গত ১৭ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানোর জন্য কিংবা যতটুকু বিদ্যুৎ প্রয়োজন সেক্ষেত্রে গত ১৭ বছরে কোনো কাজ হয়নি। কিন্তু আমাদের ছয় মাসের মধ্যে সবকিছু সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে নিরলস প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। বিদ্যুতের এ ঘাটতি ইনশাআল্লাহ অচিরেই সমাধান করা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সোমবার কিশোরগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয়াদি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এসব কথা বলেন। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলার সরকারি কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা এবং উন্নয়ন তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য গত ২৭ আগস্ট দায়িত্ব দেওয়ার পর প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি প্রথমবারের মতো এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে মাদকের প্রবেশ পথগুলোকে বন্ধ করতে হবে। প্রবেশ পথগুলোতে কার্যক্রম জোরদার করা গেলে মাদকের সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হবে। যারা মাদকের ব্যবসা করছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পুলিশ কষ্ট করে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরার কয়েকদিন পর সে জামিন নিয়ে চলে এসে। এই বিষয়গুলোকে সামগ্রিকভাবে দেখতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশোধনী আইন হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণের যে সংশোধনী আইন হচ্ছে এর মন্ত্রিসভা কমিটিতে আমি আছি। কমিটিতে আমি বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। মাদকের যে জামিনটা হয় সেই জামিনটা একটু না দেওয়ার জন্য কোনো ধারা রাখা যায় কি-না, কিংবা প্রমাণ হওয়ার পরে অপরাধের শাস্তিটা একটু কঠোর করা যায় কি-না, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এই বিষয়ে আপনারা অচিরেই দেখতে পারবেন।
চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। এই দলে অনেক রকমের নেতাকর্মীরা থাকবেন, এখানে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। তবে আপনারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমন কোনো পর্যায়ে কেউ যেন চাঁদাবাজি করতে না পারে, কেউ যেন কোনো দখলদারিত্ব করতে না পারে। আমরা যেহেতু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছি, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যারা আছেন তাদেরও দায়িত্ব এই বিষয়গুলোকে দেখভাল করা যেন কোনো চাঁদাবাজি না হয়, কোথাও দখলদারিত্ব না হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন। এতে অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. দিদারুল ইসলাম, কটিয়াদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফাজ্জল হোসেন, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও ও বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
