রংপুরে চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গতকাল রংপুর মেডিকেল কলেজে অভিযুক্তদের ইউরিন পরীক্ষায় এ ফলাফল পান চিকিৎসকরা। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। মিডিয়া ও প্রশাসন মহলসহ সর্বত্রই তোলপাড় শুরু হয়। নিমিষেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদকর্মীরা ডিবি কার্যালয়ের সামনে সত্যতা ও তথ্য সংগ্রহের জন্য ছুটে এলে বিকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রোববার পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ইউরিন নেয়ার অনুমতি দেন আদালত। ডিবি’র একটি টিম গিয়ে কারাগার থেকে সেটি সংগ্রহ করে। এছাড়া আমাদের আবেদনে রক্ত, চুল ও অন্যান্য কিছু স্যাম্পল ছিল। কিন্তু সেইগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজে পরীক্ষার সুযোগ নেই। আমরা ডোপ টেস্টের ফলাফলে দেখতে পেয়েছি তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আমি বিশেষজ্ঞ নই, তবে মাদক গ্রহণের ২-৩ দিনের মধ্যে ডোপ টেস্ট করলে ফলাফল পজিটিভ আসে। যেহেতু অভিযুক্তরা জেল হাজতে ৮দিন ধরে আছে। তাই এটি নেগেটিভ আসাটাই স্বাভাবিক। যদি পজিটিভ আসতো তাহলে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতো বলে তিনি মনে করেন।
অভিযুক্তদের জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি: ওদিকে ৪ খুনের মামলায় আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জিন্নাত আলী কারাগারে থাকা হত্যা মামলার দুই অভিযুক্ত আসামি মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের তিনদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে দুই অভিযুক্তের প্রত্যেককে আগামী তিনদিনের মধ্যে যেকোনো দুইদিন তিন ঘণ্টা করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার মমিনুল ইসলাম।
