মাগুরায় শিশু ধর্ষণ-হত্যা: হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

ফন্ট সাইজ:

বছর খানেক আগে মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। সোমবার আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ এ রায় দেয়। বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নৃশংসতার শিকার হয় শিশুটি। পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এ ঘটনায় করা মামলাটি অপরাধ সংঘটনের তিন মাসের মধ্যে বিচারের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এক বছরের মধ্যে। রায়ে আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ধর্ষণসংক্রান্ত ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে উচ্চ আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিশ্চিতকরণে ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি আসামি খালাস চেয়ে কারাগার থেকে জেল আপিল দায়ের করেন। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলা নিষ্পত্তির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করে। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের উপর শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এডভোকেট ইমাম হোসেন তারেক এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত কৌঁসুলি হাফিজুর রহমান খান শুনানি করেন। শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ড বহালের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে জবানবন্দি রেকর্ডসংক্রান্ত ফরমে উল্লিখিত বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেন। সবকিছু জানানোর পর আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। বিচারিক আদালতের রায়ে জবানবন্দি রেকর্ডের ক্ষেত্রে কোনো বৈপরীত্য দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট তার সাক্ষ্যেও নিশ্চিত করেছেন যে, আসামি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বপ্রণোদিত হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। কোনো ধরনের জোর জবরদস্তি, ভয়ভীতি বা প্রলোভনের মুখে জবানবন্দি দেননি। আসামির এই জবানবন্দি পাঠ করলে এটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ওইদিন রাতে শিশু আছিয়ার সঙ্গে কী হয়েছিল। রায়ে আদালত বলেছে, মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী ধর্ষণের সময় শিশুটির গলা চেপে ধরেছিল আসামি। এতে শ্বাসরোধ হয়ে জ্ঞান হারায় ভিকটিম; যা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এ ছাড়া, ডিএনএ প্রতিবেদনে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। ফলে সার্বিক পর্যালোচনায় ট্রাইব্যুনাল যথাযথভাবেই আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। আমরা ট্রাইব্যুনালের রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো কারণ দেখছি না। অপরাধের গভীরতা বিবেচনায় নিয়ে আসামির আপিল খারিজ করে ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ করা হলো।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আসামি হিটু শেখের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত এ রায় দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ই মার্চ রাতে শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।