আইফোনের জন্য লাখ টাকায় শিশু সস্তানকে বিক্রি, বাবা আটক

ফন্ট সাইজ:

দশমিনায় আইফোন কেনার জন্য নিজ শিশুসন্তান মুছাকে বিক্রি করেছিল বাবা। রোববার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক বছর বয়সী মুছাকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ইমরানের শ্বশুরবাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে মুছার বাবা মারুফ মুন্সীকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিশু মুছাকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রশাসন। গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধার কার্যালয়ে শিশু মুছাকে আর্থিক সহায়তা, পোশাক, খেলনা কিনে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং শিশুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে দিয়েছেন ইউএনও। এদিকে মারুফ মুন্সীর কাছ থেকে সন্তান বিক্রির ৫২ হাজার টাকায় কেনা একটি পুরাতন আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। মারুফ মুন্সী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আইফোন কেনার কথা স্বীকার করেছেন। শিশু মুছাকে কিনে নেয়া ইমরান হোসেন জানান, আমার থেকে বিভিন্ন সময় মারুফ এক লাখ টাকা নিয়েছেন। আমার শ্বশুরের ৫ মেয়ে হওয়ায় মুছাকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তিপত্র করে দত্তক নিয়েছিলেন। দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হই এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে তার দাদা দাদির কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।

উল্লেখ্য, দশমিনায় এক বছর বয়সী সন্তানকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে আইফোন কেনার অভিযোগ ওঠে তার বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। শনিবার দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড়গোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, উপজেলার বড়গোপালদী গ্রামের মফিজ মুন্সীর ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। স্বামী স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধের কারণে তাদের এক বছরের ছেলে মুসাকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগম লালন-পালন করে আসছিলেন। গত শনিবার মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে তার বাবা মায়ের কাছ থেকে ছেলে মারুফ মুন্সী মুসাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে স্বজনরা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে বিক্রি করে দিয়েছেন। মারুফ ওই টাকায় আইফোন কিনেছেন।