সরকারের অনুমতিক্রমে লম্বা সময়ের জন্য ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের কাজে প্রায় ৫২ দিনের জন্য তার নিউ ইয়র্ক সফরের অনুমতি দিয়েছে সরকার। বিশ্বমঞ্চের এই দায়িত্ব পালন শেষে আগামী ২২শে অক্টোবর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, ড. খলিলুর রহমানের অবর্তমানে দায়িত্ব সামলাবেন প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি আদেশে বলা হয়, ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটিতে যাচ্ছেন না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই তাকে নিউ ইয়র্কে দীর্ঘ অবস্থানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকারি আদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর রোববার রাতে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন ড. খলিল।
আগামী ৮ই সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশন শুরু হবে। এর আগেই ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেবেন ড. খলিলুর রহমান। মূলত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ এবং তা পালনের প্রস্তুতির কারণেই অধিবেশন শুরুর আগেই তাকে নিউ ইয়র্কে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র।
গত জুনে জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান ড. খলিলুর রহমান। ২রা জুন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের ভোটে তিনি সাইপ্রাসের প্রার্থী ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে হারান। এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যের। ড. খলিলুর রহমানের মধ্যদিয়ে প্রায় চার দশক পর আবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসছে বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এমন একটি গৌরবময় মুহূর্তে এবারের সাধারণ বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উচ্চপর্যায়ের এই সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২শে সেপ্টেম্বর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা এতে অংশ নিয়ে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীও এবারের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দেবেন। ২৪শে সেপ্টেম্বর তার ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়তে পারেন।
